গরমে হাঁসফাঁস মাদারীপুরের পশুর হাটে, পাখা হাতে পশুর পাশে বিক্রেতারা

ছবি: আগামীর সময়
ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাদারীপুরের পশুর হাটগুলোতে বেচাকেনা জমে উঠেছে। তবে উৎসবের আমেজের পাশাপাশি তীব্র গরম যোগ করেছে বাড়তি ভোগান্তি। হাটে আসা মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশুরও হাঁসফাঁস অবস্থা। আদরের পশুকে একটু স্বস্তি দিতে কেউ হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন, কেউ বা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন স্ট্যান্ড ফ্যানও।
জেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরু-ছাগলের জন্য পৃথক স্থান রেখে এ বছরও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সারি সারি বাঁধা ছোট-বড় নানা জাতের গরু নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারা হাট ঘুরে দরদাম করছেন। তবে ভ্যাপসা গরমে বেশিক্ষণ হাটে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে সবার জন্য।
রাজারচর এলাকার খামারি নুরে আলম সবুজ বললেন, 'হাটে আমার খামারের বড় গরুগুলোসহ সব মিলিয়ে ২৫টি গরু নিয়ে এসেছি। প্রচুর গরমে কষ্ট হচ্ছে। সকাল থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় যারা কোরবানি দেবেন তারাও গরু কিনছেন। দাম মোটামুটি আছে, তবে গো-খাদ্যের দামের তুলনায় লাভের অঙ্কটা খুব বেশি হয় না।' শুধু সবুজ নন, তার মতো অসংখ্য খামারি ও পাইকারি বিক্রেতা গরম আর দ্রুত বিক্রির চিন্তায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বিক্রেতা রহিম উদ্বেগ জানান, 'যেই গরম পড়েছে, এতে গরু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই বাতাস করতেছি। পাখার ব্যবস্থাও করেছি, যাতে গরু অসুস্থ না হয়। আমাদেরও যেরকম অস্থিরতা লাগে, তেমনি ওদেরও লাগে।'
ক্রেতাদের অভিজ্ঞতাও খুব একটা সুখকর নয়। মাদ্রা এলাকার ক্রেতা কামাল মাতুব্বর জানান, হাটে প্রচুর গরু উঠেছে, তবে দাম একটু চড়া মনে হলো। ভ্যাপসা গরমে বেশিক্ষণ ঘোরাঘুরি করা যায় না, ভীষণ কষ্ট হয়।
দুই ভাই মিলে কোরবানি দেবেন বলে হাটে আসা ক্রেতা সোবহান জানান, দাম মনমতো হলে কিনে নিয়ে যাবেন। হোগলপাতিয়ার সিদ্দিক আকন ছাগল কিনতে এসেছেন। তার ভাষ্য, 'এবার বাজেট কম, তাই ছাগল দিয়ে কোরবানি দেব। দামদর চলছে, আল্লাহর রহমতে কেনা হয়ে যাবে।'
শিমুলতলা কুলপুদ্দিন গরুর হাটের ইজারাদার আজাদ খান জানালেন, বিক্রেতাদের জন্য বিদ্যুৎসহ নানা সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক বিক্রেতা নিজেরাই ফ্যান এনে পশুকে সার্বক্ষণিক বাতাস দিচ্ছেন। আরেকটি হাটের ইজারাদার আলমগীর মোল্লা বলছেন, ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন কোনো প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য প্রতিনিধিরা সক্রিয় রয়েছেন এবং মেমোর মাধ্যমে পশু কেনাবেচা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. আছির হোসেন জানান, জেলায় স্থায়ী ১০টি ও অস্থায়ী ২৯টিসহ মোট ৩৯টি পশুর হাট বসছে এবার। আগামী বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন হাটে বেচাকেনা চলবে। জেলায় ৬৬ হাজার ৮৮০টি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৭২ হাজার ৪৯৫টি পশু। পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৩৯টি হাটকে ঘিরে ১৮টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
নিরাপত্তার বিষয়ে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা বলেছেন, 'কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা কারবারি ধরতে ও মলম পার্টির তৎপরতা রোধে সাদা পোশাকেও কাজ করছে পুলিশ। আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে টহল বাড়ানো হয়েছে, যাতে বিক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্যে পশু বিক্রি করে অর্থ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেন।'






