কমলগঞ্জে লোডশেডিং
চা উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চাশিল্প। ভরা মৌসুমে উপজেলার ২২টি চা বাগানের কারখানায় স্বাভাবিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না। দিনে গড়ে ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন নেমে এসেছে স্বাভাবিক সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশে। অর্থাৎ উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ। বাধ্য হয়ে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ। এতে বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় চায়ের গুণগত মান নিয়েও তৈরি হচ্ছে শঙ্কা।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির মাধবপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহের ভাষ্য, ‘ভরা মৌসুমে যখন চায়ের উৎপাদন সর্বোচ্চ থাকার কথা, ঠিক তখনই বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে কারখানা চালানো। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে চায়ের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সার্বক্ষণিক উৎপাদন ধরে রাখতে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, এতে বাড়তি জ্বালানি খরচ হচ্ছে এবং চায়ের সার্বিক উৎপাদন বেড়ে যাচ্ছে ব্যয় বহুগুণ।’
চায়ের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সময়ের গুরুত্ব থাকায় বিদ্যুতের
সামান্য ব্যাঘাতও বড়
ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। কাঁচা চা পাতা দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে গুণগত মান নষ্ট হওয়ার
আশঙ্কা থাকে। তাই বিদ্যুৎ ফিরে আসার অপেক্ষায় কারখানা বন্ধ রাখা সবসময় সম্ভব নয়। উৎপাদন
ধরে রাখতে জেনারেটর চালানোই তখন একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়।
দিপন কুমার সিংহের আশঙ্কা, এ অবস্থা চলতে থাকলে চলতি মৌসুমে চা খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবে। কারণ ভরা মৌসুমে উৎপাদনের যে সুযোগ থাকে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাতছাড়া হচ্ছে তার বড় একটি অংশ।
অবশ্য বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষের দাবি, গত দুদিন লোডশেডিং তুলনামূলক কম ছিল। তার আশা, দুই-তিন দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে আসবে পরিস্থিতি।






