‘আপা’ ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে বনফুলকে জরিমানা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা
সিলেটের ওসমানীনগরে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। জরিমানার প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়ভাবে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি। কেউ বলছেন বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে, আবার কেউ দাবি করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় এ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
বিতর্ক আরও জোরালো হয় বুধবার (৩ জুন) একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে ‘ইউএনওকে “আপা” সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর। এরপর সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে, গত ২৯ মে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখায় অভিযান চালান। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে বাসি মিষ্টি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠে। পরে ভোক্তা অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানার পর থেকেই এলাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বাসি মিষ্টির কারণেই জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষের মধ্যে ‘আপা’ সম্বোধনের কারণে জরিমানার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এ বিষয়ে ইউএনও মুনমুন নাহার আশার বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তার জবাবে তিনি জানান, বনফুলের ওই শাখার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। অভিযানে গিয়ে তিনি অভিযোগের সত্যতা পান।
তিনি জানান, এ বিষয়ে এক কর্মচারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি এবং সেখান থেকে চলে যান। পরে শাখা ব্যবস্থাপক তাকে হাজির করেন। এরপর আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ পরদিন সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইউএনও আরও জানান, “হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকার ও মোবাইল কোর্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কিছু মহল মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করেছে।”
অন্যদিকে বনফুলের তাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক সোহেল বড়ুয়া জানান, “বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। আসলে আমাদের একজন কর্মচারী পণ্যের মান সম্পর্কে ম্যাডামকে সঠিকভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেননি। সেখান থেকেই ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।”
তবে জরিমানার প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ভ্রাম্যমাণ আদালত এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঘটনাটি নিয়ে ওসমানীনগরজুড়ে এখনও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ‘বাসি মিষ্টি’ এবং ‘আপা’ সম্বোধন—এই দুই বিষয়কে কেন্দ্র করে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জরিমানার একমাত্র কারণ ছিল খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে পাওয়া অভিযোগের সত্যতা।





