হিলিতে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ সংকট আর তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।
ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীও। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল ও অন্যান্য জরুরি সেবাতেও।
হিলি পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহকের জন্য দৈনিক ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। তবে উৎপাদন ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে অন্তত ১০ থেকে ১২ বার। একবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। চলমান তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন শিশু, প্রবীণ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের স্বস্তি দিতে স্বজনদের হাতপাখার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। হিলির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ভ্যানচালকেরা। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় তারা সময়মতো ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছেন না। ফলে কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনিক আয়ও অনেক কমে গেছে।
হিলি পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোন অফিসের এজিএম মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, উৎপাদন ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিড থেকেই কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে লোডশেডিং পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।




