‘উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তার বলিষ্ঠ রূপকার জিয়াউর রহমান’

ছবি: আগামীর সময়
‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনধারা, রাষ্ট্রচিন্তা, রাজনৈতিক দর্শন ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে গভীরভাবে অঙ্কিত হয়ে আছে। তিনি ছিলেন স্বাধীনতার রণাঙ্গনের সাহসী সেনানায়ক, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের স্থপতি, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা এবং উন্নয়নমুখী রাষ্ট্রচিন্তার বলিষ্ঠ রূপকার।’
আজ শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা স্মৃতিচারণ করে জানালেন, ‘১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। ধীরে ধীরে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন। তিনি বিশ্বাস করতেন, গণতন্ত্র শুধু একটি শাসনব্যবস্থা নয়, বরং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।’
আলোচনায় আরও তুলে ধরা হয়, জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পুনর্গঠনের সুযোগ পায়। সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের ক্ষেত্রেও নতুন গতি ফিরে আসে। তিনি জাতীয় রাজনীতিতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ধারণা সামনে আনেন। ভাষা, সংস্কৃতি, ভূখণ্ড, স্বাধীনতার চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বয়ে জাতীয়তাবাদী পরিচয়কে তিনি নতুনভাবে উপস্থাপন করেন।
বক্তাদের মতে, ‘তার এই দর্শন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।’
সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রশীদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শওকাত আলী। আলোচক হিসেবে অংশ নেন রংপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. জহুরুল হক, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ, রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক, ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. নিখিলেন্দু শংকর গুহ রায়, চিকিৎসক নেতা ডা. জাবেদ আকতার এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ওবায়দুল করিম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী ডন, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।
এদিকে, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রংপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।
এ ছাড়া মহানগর বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।






