দাউদকান্দি
আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

ছবি: আগামীর সময়
এক সময় গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ছিল ঢেঁকি। কালের বিবর্তন আর আধুনিক প্রযুক্তির কারণে প্রাচীন এই শিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিসহ দেশের প্রতিটা অঞ্চলে প্রায় একই অবস্থা।
দাউদকান্দি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১৯৯০ দশকের আগে শতভাগ কৃষকের ঘরেই ছিল ঢেঁকি। এখন ১০০০ হাজার কৃষকের ঘর খুঁজে দুই একটি বাড়িতে ঢেঁকি পাওয়া দুষ্কর।
সরেজমিন বুধবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে কয়েকজনের বাড়িতে পাওয়া গেল সেই কাঙ্ক্ষিত ঢেঁকি। স্থানীয় ভরণপাড়া গ্রামের কৃষক নূরে আলম বললেন, আমাদের পরিবারের অনেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে থাকে। তারা প্রতিবছরের ডিসেম্বরে বাড়িতে আসেন। এ সময় ঢেঁকিছাঁটা নতুন চালের পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়।
একসময় ঢেঁকির ধূপধাপ শব্দে মুখরিত ছিল বাংলার জনপদ। ঢেঁকিই ছিল এক সময়ের গ্রামীণ জনপদে চাল, চালের গুঁড়া ও আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু এখন মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি।
উপজেলার পালপাড়া গ্রামের কৃষক শাহআলমের ঘরেও দেখা গেল বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পথে সেই ঢেঁকি শিল্প।
তিনি বললেন, ঢেঁকি থাকলেও আগের মতো আর ব্যবহার হয় না। বছরে দু’একবার মেহমান এলে ব্যবহার হয়।
ঢেঁকি প্রসঙ্গে কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানালেন, ঢেঁকি শিল্প গ্রামঞ্চলে প্রায় বিলুপ্ত। আগের দিনে ঢেঁকির ছন্দময় শব্দে ঘুম ভাঙতে মানুষের। এখন সেই ছন্দময় জীবন নেই গ্রামে।
জানতে চাইলে অনেকেই জানান, আগে প্রায় সবার বাড়িতে ঢেঁকি ছিল। সেই ঢেঁকিছাঁটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনো মনে পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তির ফলে গ্রামবাংলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে।
দাউদকান্দি উপজেলার কৃষক ও পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকতের সঙ্গে কথা হলে তিনি বললেন, ১৯৯০ দশকে দাউদকান্দি উপজেলার প্রতিটা বাড়িতে ছিল ঢেঁকি। সেই ঢেঁকিছাঁটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। ভবিষ্যতে ঢেঁকি দেখতে হলে যেতে হবে আমাদের নতুন প্রজন্মকে যাদুঘরে।




