অবশেষে সামাজিক গোরস্থানে সেই বৃদ্ধের দাফন

বসতঘরে দাফন করা করিম মিয়ার মরদেহ তোলা হচ্ছে
শেরপুরের শ্রীবরদীতে দাফনের জায়গা পেয়ে মেয়ের বসতঘরে দাফন করা হয় ৭০ বছর বয়সী করিম মিয়াকে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মরদেহ তুলে সামাজিক গোরস্থানে দাফন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সম্মতিতে মরদেহটি স্থানান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অসহায় পরিবারটির জন্য আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
করিম মিয়ার বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদীর তাতিহাটি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে। একসময় তার আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে জমিজমা বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এক মেয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। অন্য মেয়ে কৌতুলী বেগম ও ছেলে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন।
কৌতুলী বেগম তিন শতাংশ জমি কিনে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেন। সেই ঘরেই আশ্রয় দেন অসুস্থ বাবা করিম মিয়া ও মা সাজেদা বেগমকে।
গত ২৫ অক্টোবর রাতে করিম মিয়া মারা যান। দাফনের জন্য আলাদা জায়গা না থাকায় পরদিন ২৬ অক্টোবর মেয়ের বসতঘরের এক পাশে তাকে কবর দেওয়া হয়। আরেক পাশে আশ্রয় নেন তার স্ত্রী সাজেদা বেগম।
বসতঘরের ভেতরে করিম মিয়ার কবর দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের নজরে এলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক গোরস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান করেন। সেখানেই করিম মিয়ার মরদেহ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন করিম মিয়ার মরদেহ ঘর থেকে তুলে নতুন সামাজিক গোরস্থানে দাফন করে। এ সময় পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সম্মতি দেন।
করিম মিয়ার মেয়ে কৌতুলী বেগম বলেন, ‘আমার বাবাকে আমার ঘরেই মাটি দিছিলাম। আমার কাছেই রাখছিলাম। প্রশাসনের লোক আইছে। এহন নিতেছেগা। এই জায়গা যেন তারাতাড়ি সরকারের নামে নেইখা (লিখে) দেয়।’
করিম মিয়ার ছেলে বলেন, ‘জায়গাজমি নাই তাই ঘরে মধ্যেই কবর দিছিলাম বাবারে। সামাজিক গোরস্থানে নিতাছেগা তাতে আমাদের আপত্তি নাই।’
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা আহাম্মেদ বলেন, ‘আমাদের কেউ বিষয়টি অবগত করে নাই। বিষয়টি জানার পর ডিসি স্যারের নির্দেশে আমরা লাশ স্থানান্তর করলাম। এলাকার লোকজনও সামাজিক গোরস্থান করার জন্য জমি দান করেছে।’
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার নলেজে আসার সাথে সাথে ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসহায় পরিবারটিকে আমরা সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করছি।’ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।



