চাকরির প্রতিশ্রুতিতে জমি দান, না পেয়ে স্কুলের মাঠে লাগালেন কলাগাছ

স্কুলের মাঠ জুড়ে লাগানো কলাগাছ
বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। বিনিময়ে নেওয়া হয়েছে টাকা ও জমি। পরে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা এবার বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে লাগিয়েছেন কলাগাছ। একই সঙ্গে বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রধান ফটক।
রাজশাহীর পুঠিয়ার ভাল্লুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই অভিনব প্রতিবাদ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময় কয়েকজনকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয় মোটা অঙ্কের টাকা। প্রতিষ্ঠানের নামে মূল্যবান জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পরে প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। ফেরতও দেওয়া হয়নি টাকা কিংবা জমি। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোনো উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন ভুক্তভোগীরা। একপর্যায়ে তারা বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেন। এরপর পুরো খেলার মাঠে সারিবদ্ধভাবে কলাগাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানান।
ভুক্তভোগী মিলন হোসেন জানিয়েছেন, তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেছেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হন। তখন প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
মিলনের ভাষ্য, তাকে কলেজ শাখায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় চার বছর তিনি সেখানে পাঠদান করেছেন। প্রধান শিক্ষক তাকে নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্রও দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, এসব কাগজ ভুয়া।
মিলন আরও বললেন, ‘চাকরির জন্য আমি ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নগদ দিয়েছি। এখন আমি বেকার। আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় আছি। চাকরির জন্য দেওয়া পুরো টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন।’
প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ-বাণিজ্য চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বিদ্যালয়টিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।
পুঠিয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মো. ইলিয়াস হোসেনও বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহসভাপতি।
ইলিয়াস হোসেন বললেন, ‘আমাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক রেজল্যুশনে আমার স্বাক্ষর জাল করেছেন। নিয়োগ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।’
তিনি বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শনে এলে তিনি এসব বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরবেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা। তিনি বলেছেন, বিদ্যালয়ের জন্য জমি দেওয়ার কারণে দাতা পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করা হয়েছিল। পরে তাকে প্রাথমিক শাখায় চাকরি দেওয়া হয়েছে।
স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বললেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা।’



