সংস্কার হচ্ছে শত বছরের দিনাজপুর জমিদার বাড়ি

ছবি: আগামীর সময়
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৪০০ বছরের পুরনো দিনাজপুর রাজবাড়ি। একসময় যা ছিল গোটা উত্তরবঙ্গের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতার প্রতীক, কালের বিবর্তনে তা আজ অনেকটাই ধ্বংসস্তূপ। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর জরাজীর্ণতা কাটিয়ে অবশেষে এই ঐতিহাসিক প্রাসাদে প্রাণ ফেরানোর চেষ্টা করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।
দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে রাজবাড়িটিকে তার আদি রূপে ফিরিয়ে আনার এই কর্মযজ্ঞে এখন নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা।
দিনাজপুর শহর থেকে চার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত রাজবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, রাজবাড়িটির আয়না মহল ও রানী মহল নামে দুটি ভবনের সংস্কার চলছে। মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে তা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভবনটির সামনে ও পিছনের অংশের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। এতে জরাজীর্ণ ভবনটিতে হারানো জৌলুস ফিরে এসেছে।
রাজবাড়িটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ দেব (৬৫) আগামীর সময়কে জানান, এই রাজবাড়িটি দিনাজপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন অযন্তে অবহেলায় তা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় রাজবাড়িতে প্রাণ ফিরেছে। এখন আগের তুলনায় দর্শনার্থীও বেড়েছে দাবি তার।
জানা গেছে, ১৯৫১ সালে প্রজাসত্ত্ব আইন চালুর পর এবং দেশ বিভাগের সময় দিনাজপুর রাজবাড়ির পতন হয়। পাকিস্তান শাসন আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সময় পর্যন্ত এই রাজবাড়িটি অরক্ষিত ছিল। ১৫৫০ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ শতাব্দী পর্যন্ত ১১ প্রজন্মের শাসন ছিল দিনাজপুর রাজবাড়িতে। এই প্রজন্মের ১৭২২ সালে রাজা রমানাথের সময় উত্তরাঞ্চলের বিশাল এলাকাজুড়ে সমৃদ্ধ ছিল দিনাজপুর মহা-রাজার রাজত্ব।
মহারাজার পতনের পর পাকিস্তান সরকারের আমলে এটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি জনবলের অভাবে এটি পরিত্যক্ত প্রাসাদে পরিণত হয়।
দালানকোঠাসংবলিত মূল রাজবাড়ির আয়তন ছিল ১৬ একর। সমন্বিত রাজবাড়ি তিনটি মহলে বিভক্ত। আয়না মহল, রানী মহল ও ঠাকুরবাড়ি মহল। তাছাড়া ফুলবাগ, হীরাবাগ, সবজীবাগ, পিলখানা, দাতব্য চিকিৎসালয়, অতিথি ভবন, কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা ও কয়েকটি দিঘি রয়েছে। রাজপরিবারের ইতিহাসের জনমুখে রয়েছে নানা কাহিনি।
২০২৫ সালে দিনাজপুর রাজবাড়ি সংস্কার প্রকল্পটি গৃহীত হয়। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে চলছে মূল অন্দরমহলের নকশা ও কাঠামোগত সংস্কারের কাজ।
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ আগামীর সময়কে জানান, গত অর্থবছরে বরাদ্দের টাকায় রাজবাড়ির কিছু অংশের কাজ শেষ হয়েছে। নতুন অর্থবছরে ফের কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে পুরো রাজবাড়িতে সংস্কার কাজ হবে। কাজ শেষ হলে ঐতিহাসিক রাজবাড়ি তার নিজস্ব সৌন্দর্য ফিরে পাবে আশা তার।




