ডেঙ্গু ঠেকাতে মানুষের সচেতনতাই সবচেয়ে বড় শক্তি : রাজশাহীর ডিসি

রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা জেলা প্রশাসনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান— আগামীর সময়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রয়োজন ঘরে ঘরে সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম।
ডেঙ্গু ও প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ রোধে পরিচ্ছন্নতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে রাজশাহীর পুঠিয়ায় শুরু হয়েছে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। ‘রোধ করি ডেঙ্গু ও প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ’ প্রতিপাদ্যে আজ শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও পুঠিয়া পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক এই আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আরও বললেন, ‘ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। এটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারকে নিজেদের বাড়ি, আঙিনা, ছাদ, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন বৃষ্টির পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেছেন, ‘প্লাস্টিক ও পলিথিন এখন পরিবেশের অন্যতম বড় হুমকি। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে না পারলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি আরও বাড়বে। পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সবুর আলী, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা মনোহরাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্লাস্টিক-পলিথিনের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এ উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করবে।
উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসকসহ অতিথিরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।







