জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজশাহীতে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ হবে : ভূমিমন্ত্রী

রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থান-২৪ ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় কথা বলছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু— সংগৃহীত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মত্যাগী শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণে রাজশাহীতে স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, 'ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও শহিদদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থান-২৪ ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রাজশাহী গণ-অভ্যুত্থান-২৪ পরিষদ।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী বলেছেন, 'বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ও শহিদ ড. শামসুজ্জোহার স্মৃতির মতোই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে রাজশাহীতে একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে। এই স্মৃতিস্তম্ভ নতুন প্রজন্মকে গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম এবং শহিদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।'
শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ এবং রাজশাহীর শহীদ শাকিব আঞ্জুম, আলী রায়হান ও মিনারুল ইসলামসহ সব শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বললেন, '১৯৬৯ সালে শহিদ ড. শামসুজ্জোহা যেমন ছাত্রদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও অসংখ্য তরুণ দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন। জাতি তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলবে না।'
আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী বললেন, 'চীন সরকারের সহযোগিতায় একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। যাদের বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হবে, তাদের সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড অথবা মালয়েশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।'
শহীদ পরিবারের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেছেন, 'প্রতিটি শহীদ পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'
নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রসঙ্গ তুলে ভূমিমন্ত্রী বললেন, 'প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, দেশপ্রেম, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতেই এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই শহিদদের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব হবে।'




