গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ : ৬০ কারখানায় ছুটি, গ্রেপ্তার ৭

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন।
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় মহানগরের নাওজোড় ও ভোগড়া এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও শ্রমিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে জেলার অন্তত ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শ্রমিক নন এমন সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দুপুর সোয়া একটার দিকে প্রায় চার ঘণ্টা পর দুই মহাসড়কেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিল্প পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানালেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহানগরের নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উড়াল সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে তারা বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
একই সময়ে কোনাবাড়ীর বে ফুটওয়্যার, মৌচাক এলাকার পূর্বানী এবং তেলিচালা এলাকার লগোস অ্যাপারেলস ও এটিএস অ্যাপারেলসের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। খবর পেয়ে বিজিবি, শিল্প পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
একই সময়ে ভোগড়া বাইপাস এলাকায়ও শ্রমিকরা টায়ার জ্বালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেখানেও পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে শ্রমিক নন, এমন সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বললেন, জেলার কয়েকটি এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর পর্যন্ত ৬০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিক নন, এমন সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটছে। এসব ঘটনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের গাড়ি, বিভিন্ন যানবাহন ও কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।



