কিডনি দিয়ে টাকা না পাওয়ার অভিযোগে দিনমজুরের মামলা

কিডনি বিক্রি করে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগে মন্টু মিয়ার করা মামলার নথি। ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের এক দিনমজুর কিডনি বিক্রি করে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। মামলাও করেছেন জয়পুরহাট আদালতে, যা নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম। ওই দিনমজুরের অভিযোগ, নেপালে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করানো হয় তাকে। এরপর কিডনি নিলেও তাকে পরিশোধ করা হয়নি প্রতিশ্রুত অর্থ।
এ ঘটনায় গত ১৩ জুন জেলা জয়পুরহাট আমলী আদালত-৫-এ মামলার আবেদন করেন মন্টু মিয়া। আদালতের নির্দেশে পরদিন মামলাটি কালাই থানায় এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে আছেন, বগুড়ার সদর উপজেলার নিশিন্দারা (খাঁপাড়া) গ্রামের সাব্বির আহমেদ, একই জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়ার সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউপির পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান, সাইদুর রহমান, উদয়পুর ইউপির লওনা (বহুতি) গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জের তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরী।
এজাহারে বলা আছে, দিনমজুর মন্টু মিয়া সংসার চালাতে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নেন। তবে কিস্তি শোধ করতে পারছিলেন না। স্থানীয় কয়েকজন তাকে কিডনি বিক্রি করার প্রস্তাব দেন। মন্টুকে বলা হয়, ঢাকার এক নারীর কিডনি নষ্ট হয়েছে। তার জন্য ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে খোঁজা হচ্ছে প্রত্যঙ্গটি।
মন্টুর অভিযোগ, প্রস্তাবে তিনি রাজি হন। আসামিরা তাকে ঢাকায় নিয়ে তৈরি করিয়ে দেয় পাসপোর্ট। চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম দিকে তাকে ৫০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। আসামিরা এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভারত হয়ে নেপালে। সেখানে হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নেওয়া হয় তার একটি কিডনি। এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন আসামিরা। তবে আর কোনো টাকা তাকে দেওয়া হয়নি।
৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেয়ে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে আসামিদের চাপ দেওয়া হলেও তারা পাওনার কথা অস্বীকার করেন— জানালেন মন্টু।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানালেন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে হয়েছে মামলাটি। গুরুত্ব দিয়ে চলছে তদন্ত।




