মালিককে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করে কোটি টাকা দাবি ম্যানেজারের

ছবি: আগামীর সময়
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক ইটভাটা মালিককে ব্ল্যাকমেইল করে কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাহাবউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ওই ব্যবসায়ী পলাশ উজ্জ্বামান খান।
অভিযুক্ত সাহাবউদ্দিন মদন উপজেলার কাইটাইল এলাকার বাসিন্দা। ভুক্তভোগী পলাশ উজ্জ্বামান একই ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে করা হয়েছে, পলাশ উজ্জ্বামান খানের মালিকানাধীন একটি ইটভাটায় প্রায় এক বছর আগে ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পান সাহাবউদ্দিন। পরে তিনি ইটভাটার শেয়ার নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে রাজি হয়ে ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর উভয়ের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চুক্তিতে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের কথা থাকলেও সাহাবউদ্দিন টাকা না দিয়ে নানা অজুহাত দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি পলাশের কাছে কোটি টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আত্মহত্যার হুমকিও দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ওই ব্যবসায়ীর দাবি, পরে সাহাবউদ্দিন ইটভাটার একটি কক্ষে ঢুকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মদন থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পরে মুচলেকার মাধ্যমে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করা হয়।
পলাশ উজ্জ্বামান আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে ইটভাটার ক্যাশ টেবিলের ড্রয়ার থেকে চারটি স্বাক্ষরিত চেক ও তিনটি স্ট্যাম্প নিয়ে যান সাহাবউদ্দিন। তার আশঙ্কা, এসব চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হতে পারে। এ কারণে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মদন উপজেলার এডব্লিউবি ব্রিকসের মালিক আব্দুল ওয়াহেদ বলেছেন, সাহাবউদ্দিন আগে তার ইটভাটাতেও ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন। সে সময় নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে ক্ষতির মুখে ফেলেছিলেন। এখন তিনি পলাশ উজ্জ্বামানের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযুক্ত সাহাবউদ্দিন জানিয়েছেন, ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেই তিনি শেয়ার নিয়েছেন। তবে শেয়ারের মুনাফা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। পরে টাকা পরিশোধের প্রমাণ চাইলে ফোন কেটে দেন।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






