সিসিক প্রশাসক
প্রবাসীদের হয়রানি ও জমি দখলের অভিযোগ অগ্রাধিকার পাবে

ছবি: আগামীর সময়
দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশে ফিরে যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
আজ সোমবার বিকালে নগর ভবনে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সিসিক প্রশাসক বলেছেন, প্রবাসীদের বৈধ সম্পত্তি যাতে কেউ অন্যায়ভাবে দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রবাসীদের জমি দখল কিংবা জমি-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে এবং এ ধরনের অভিযোগ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক ব্রিটিশ নাগরিক উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। সেখানে তৃতীয় প্রজন্ম বেড়ে উঠলেও বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও টান অটুট রয়েছে। সেই টানেই তারা নিয়মিত দেশে আসেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকারের এ সফরের মধ্য দিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশন ও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে এ ধরনের মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাক্ষাৎ শেষে ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ সিসিক প্রশাসক ও তার টিমের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানালেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ তথা সিলেটের সঙ্গে টাওয়ার হ্যামলেটসের সম্পর্ক শুধু প্রবাসী বা ভৌগোলিক সম্পর্ক নয়, এটি রক্ত, আত্মা ও সংগ্রামের সম্পর্ক। টাওয়ার হ্যামলেটসকে বাংলাদেশের বাইরে এক টুকরো বাংলাদেশ বললেও অত্যুক্তি হবে না। সেখানে বাংলাদেশের পতাকা অত্যন্ত গৌরবের সঙ্গে উড়ছে।
তিনি আরও বলেছেন, সাক্ষাৎকালে আধুনিক নগরায়ণ, যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, মেধা ও কার্যকর পদ্ধতি বিনিময়ের মাধ্যমে নগর ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
ব্যারিস্টার মুস্তাক আহমদ আশা প্রকাশ করেন, দুই প্রশাসনের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার হলে নগর উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে। এক্ষেত্রে উভয়পক্ষের রাজনৈতিক নেতৃত্বও ভূমিকা রাখতে পারেন।
এ সময় সাবেক এপিপি অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, সাংবাদিক খালেদ আহমদ, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ব্যবসায়ী মেহরাব মুমিন এবং সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হানুল হক উপস্থিত ছিলেন।



