ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নতুন সম্ভাবনা

জ্বালানি সংকটে বিকল্প শক্তি, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আলোচনায়
বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ২৬ হাজার ৫১৪ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের রয়েছে সম্ভাবনা। একই সঙ্গে প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ২.৯৮ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব।
আজ শুক্রবার রংপুরে আয়োজিত ‘হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতায় বাংলাদেশে জ্বালানি ঝুঁকি তীব্র: সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ডেভেলপমেন্ট অব পুওর সোসাইটির (ডপস) নির্বাহী পরিচালক উজ্জ্বল চক্রবর্তী।
তিনি মত দেন, দেশে রয়েছে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার পরিবার। যারা জাতীয় গ্রিডের মোট বিদ্যুতের ব্যবহার করে ৫৭ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ পরিবার অন্তত এক কিলোওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে সক্ষম। এতে দেশের মোট সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা প্রায় ১৬ হাজার ৩৬১ মেগাওয়াটে হতে পারে উন্নীত।
তিনি দাবি করেন, এই পরিমাণ বিদ্যুৎ যদি ফার্নেস অয়েল বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল দিয়ে করা হয় উৎপাদন। তাহলে বছরে প্রায় ৪৮ হাজার ৮১৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অন্যদিকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিদ্যুতের একটি স্থিতিশীল উৎস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য উপকারী।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, জ্বালানি সংকট থেকে উত্তরণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারি ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ জরুরি। ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি) রংপুরের সভাপতি এস এম পিয়াল জানান, ২০২৫ সালে গৃহীত ৩ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি যুক্তি দেন, দেশের প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১ হাজার ১৩৭টি কলেজ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং ১৭০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ২ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব। এতে জ্বালানি আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
বক্তারা কৃষিখাতেও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, ডিজেলচালিত সেচ পাম্পগুলো সৌরশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে বছরে প্রায় ১০ হাজার ৯১৪ কোটি টাকার ডিজেল আমদানি কমানো সম্ভব।
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদুজ্জামান ফারুক বললেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ছাড়াও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, খাল ও নদীপাড়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ বিভিন্ন বিকল্প উৎস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।
এর আগে একই স্থানে ‘জ্বালানির জ্বলন্ত চুল্লি থেকে মুক্তি এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। এতে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় জাতীয় ঐকমত্য গঠন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি সম্প্রসারণসহ তুলে ধরা হয় ১৩ দফা সুপারিশ।

