বাস্তবায়ন রোডম্যাপ যাচ্ছে জাতিসংঘে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ পেছানোর ক্ষেত্রে ২৫টি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। এসব বাস্তবায়নে তিন বছর সময় ধরেই আগানো হচ্ছে। এজন্য একটি রোডম্যাপের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এক্ষেত্রে বাস্তবায়নকারী হিসেবে ২৭টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যে তিনটি সংস্কার, ২০২৭ সালের মধ্যে পাঁচটি, ২০২৮ সালের মধ্যে ছয়টি, ২০২৯ সালের মধ্যে ১১টি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির একজন অতিরিক্ত সচিব আগামীর সময়কে বলেছেন, শিগগিরই এটি চূড়ান্ত করে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এর আগে খসড়া দ্রুত পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে। তাদের মতামত পেলে চূড়ান্ত করা হবে। তিনি জানালেন, অতীতের যেসব সময় বাড়ানো হয়েছে সবই তিন বছর করে। তাই আমরা আশা করছি বাংলাদেশও তিন বছর পাবে। তবে সিদ্ধান্তটি হবে ইকোসকের বৈঠকে। সেখানে ৫৩ দেশের সমর্থন লাগবে।
ইআরডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গত ২৯ এপ্রিল ইউএন-সিডিপির সঙ্গে ইআরডির ভার্চুয়াল পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গৃহীত অঙ্গীকারের ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিমূলক কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২৯) খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এদিকে এলডিসি উত্তরণের সময় পেছানোর বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) সম্মতি পাওয়া গেছে ২ জুন। এই পরিপ্রেক্ষিতে রোডম্যাপ চূড়ান্ত এবং বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়টিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রোডম্যাপের খসড়াটি চলে এসেছে আগামীর সময়ের হাতে। সেটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলবে মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলার মুদ্রানীতিগত উদ্দেশ্য পূরণে পরিপূরক হিসেবে রাজস্বনীতির বিভিন্ন বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মৌসুমি চাহিদা ও সরবরাহ মূল্যায়নের জন্য একটি তথ্য-প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি প্রণয়ন, বাজার পর্যবেক্ষণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সেগুলোর নিরবচ্ছিন্ন ও নির্বিঘ্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাণিজ্যনীতি সমন্বয় করা হবে। এগুলো বাস্তবায়ন করবে অর্থ বিভাগ, ইআরডি ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ঋণ টেকসইকরণ বিশ্লেষণে (ডিএসএ) চিহ্নিত যেকোনো ঋণঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতা কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া। কেননা, সম্প্রতি বাংলাদেশ বৈদেশিক ও সামগ্রিক ঋণের মাঝারি ঝুঁকিতে গেছে। রপ্তানি সীমা (১৪ শতাংশ) অতিক্রম করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কায় সামগ্রিক সরকারি ঋণ (জিডিপির ৫৫ শতাংশ) বেড়ে যাওয়ায় এই ঝুঁকির সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং উন্নত করা হয়েছে। নেতিবাচক আর্থিক খাত জুড়ে নিয়মকানুন প্রতিপালনের উন্নতি সাধন এবং শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্পিত ক্ষমতার প্রয়োগ জোরদার করা হবে। এ ছাড়া দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আর্থিক সবলতা বার্ষিকভাবে ব্যাপক পর্যালোচনা করা হবে।
২০২৯ সালের নভেম্বরের মধ্যে করা হবে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, কর্মসম্পাদনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর। একই সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তি ও বন্ড এবং সুকুক ইস্যু করার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যায়ক্রমে পুঁজিবাজারের সঙ্গে একীভূত করা। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করা। কর জাল সম্প্রসারণ। ব্যাংক এবং কেন্দ্রীয় আমানতকারীদের তথ্য একত্রীকরণ।




