আবু সাঈদ হত্যা
‘আসামি ছাড়া গেছে, আমরা বেজার’

বা দিক থেকে আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম
‘আমরা খুশি না। বেশি করে অনেক আসামিকে ফাঁসি দিলে আমরা খুশি হতাম... এখন আমার অন্তর ভালো হয় নাই, আত্মা ঠান্ডা হয় নাই’। এই প্রতিক্রিয়া জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো প্রথম তরুণ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগমের। হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নন তিনি ও পরিবার।
অভ্যুত্থানের শুরুর দিকে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তৈরি হয় আলোড়ন। সেই ছবি হয়ে ওঠে গোটা আন্দোলনের প্রতীক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দেয়া হয় আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়। তাকে গুলি করে হত্যার দায়ে পুলিশের সাবেক দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মামলার ২৮ আসামির মধ্যে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
‘দুইজনকে ফাঁসি দিয়েছে, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। আরও লোকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। অনেক আসামি তো ছাড়া পেয়ে গেছে, যারা অপরাধী। কড়াভাবে সাজা দেওয়া উচিত ছিল’- রায় শুনে ক্ষোভ ঝাড়লেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।
একই ভাষ্য মা মনোয়ারা বেগমের। ‘আসামি ছাড়া গেছে, সব আসামির ফাঁসি হয় নাই, সেই জন্য আমরা বেজার।’
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফর পাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে বসেই রায়ের খবর শুনেছেন তারা। পরে কথা বলেছেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।
পরিবারটির দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিন্ধান্ত নেয়ার কথাও জানালেন তারা।
বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন আরএমপির সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। আরেক ধারায় তাদের দেওয়া হয়েছে ১০ বছরের কারাদণ্ড।
পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড পেয়েছেন আরও দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তারা হলেন- আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু ও সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন।
এই হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয় গত বছরের ২৪ জুন। ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় ৬ আগস্ট। বিচার শুরু হয় ২৭ আগস্ট।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে ছিলেন ছয় আসামি। অন্যরা পলাতক।

