নিরাপদ মাতৃত্বে নরমাল ডেলিভারিতে জোর, সম্মাননা পেলেন ১২০ মা

ছবি: আগামীর সময়
একজন মায়ের কাছে সন্তান জন্মের মুহূর্তটি যেমন আনন্দের, তেমনি গর্ভকাল জুড়ে থাকে নানা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন। এই সময়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নিরাপদ পরিবেশে সন্তান জন্মদানের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে রাজশাহীতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠান। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করা ১২০ মাকে দেওয়া হয়েছে সম্মাননা।
আজ সোমবার বেলা ১১টায় নগরের সিটি চার্চ হলরুমে ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ প্রসব সচেতনতা ও সম্মাননা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এডিপি)। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সন্তান জন্ম দেওয়া ১২০ জন মা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নিজের নরমাল ডেলিভারির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বনগ্রাম এলাকার মা সুমাইয়া আক্তার মিম। তিনি বললেন, ‘গত ১৬ মে তার সন্তান জন্ম নিয়েছে। সন্তানটি সুস্থ আছে। গর্ভাবস্থায় তিনি নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেছেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পেরে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফ এম এম আঞ্জুমান আরা বেগম। তিনি বললেন, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের গর্ভকালীন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। অন্তত চারবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা জরুরি। মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের মতো আমিষজাতীয় খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিশেষ অতিথি রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেছেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে শুধু মাকে নয়, পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নরমাল ডেলিভারি নিয়ে অযথা ভয় না পেয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে মায়েদের উৎসাহিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রাজশাহীর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নিলু বেগম। তিনি বলেছেন, শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং পরিবারের আয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
তিনি জানালেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে অন্তঃসত্ত্বা ও প্রসূতি মায়েদের গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করতে টাইমড অ্যান্ড টার্গেটেড কাউন্সিলিং (টিটিসি) মডেলের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করা ১২০ মাকে উৎসাহিত করতে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ফিলিপ আরিন্দা ‘ফাইভ জিরো প্লাস’ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বললেন, ‘কোনো শিশু যেন অভুক্ত বা অপুষ্টিতে না থাকে, কোনো শিশু যেন বিদ্যালয় থেকে ঝরে না পড়ে এবং শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহ বন্ধ করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য বর্জনের বিষয়েও মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রাজশাহী শহর এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার রিপন হালদার। এ সময় সংস্থাটির জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার অর্জুন রায়সহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।




