সিলেট
ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে জমে উঠছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা

সংগৃহীত ছবি
সিলেটের বিশ্বনাথে কোরবানির পশু কেনাবেচায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবারগুলো পছন্দের গরু নির্বাচন করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশুর ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানের মাধ্যমে।
প্রবাসী অধ্যুষিত এ উপজেলায় ঈদ উপলক্ষে দেশে ফিরেছেন অনেক প্রবাসী। তাদের বেশিরভাগই দেশি গরু কিনতে আগ্রহী। সকাল হলেই বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে গরু দেখছেন তারা। পছন্দের পশুর ছবি তুলে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। গরু কেনা হচ্ছে সবার মতামতের ভিত্তিতে।
এদিকে নিজেদের গরুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে ক্রেতা খুঁজছেন অনেক খামারি ও বিক্রেতা। এতে দিন দিন বাড়ছে অনলাইনভিত্তিক পশু কেনাবেচা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রচুর গরু ওঠলেও এখনো বেচাকেনা তুলনামূলক কম। বাজারে দেশি গরুর সংখ্যাই বেশি। ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা অপেক্ষায় রয়েছেন ক্রেতারা। এখনো বাজারে আসেনি ভারতীয় গরুও। তবে সপ্তাহের শেষ দিকে হাট জমে ওঠতে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
উপজেলার বিভিন্ন কোরবানির হাটে দেশের নানা এলাকা থেকে গরু আনা হচ্ছে ট্রাকে করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ছোট, মাঝারি ও বড় সব ধরনের পশু। এর মধ্যে মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বাজারগুলোতে দেখা গেছে ৭০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা দামের গরু।
ক্রেতাদের সুবিধার্থে আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন হাট ইজারাদাররা। সারিবদ্ধভাবে গরু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বাঁশ দিয়ে। মানুষের চলাচলের জন্য মাঝখানে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত জায়গাও।
মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ বলছেন, বেশি দামে ২০টি গরু কিনেছেন তিনি। একটি গরু কিনতেই লাগছে গড়ে ৭৫ হাজার টাকা। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
ব্যবসায়ী আবুল মিয়ার ভাষ্য, বাজারে পশুর সরবরাহ ভালো থাকলেও এখনো তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না। ক্রেতারা মূলত পশু দেখে যাচাই করছেন দরদাম। অনেকের পশু রাখার জায়গা না থাকায় এখনো কিনছেন না তারা। তবে গ্রামাঞ্চলের মানুষ আগেভাগেই কিনছেন পছন্দের গরু। পাশাপাশি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপেও চলছে কেনাবেচা।
সম্প্রতি দেশে ফেরা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মাসুক মিয়া ও আশিক মিয়া জানান, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে দেশে এসেছেন তারা। কোরবানির জন্য কিনতে চান দেশি গরু। কয়েকটি গরু দেখে সেগুলোর ছবি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছেন বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে। পরিবারের সবার পছন্দ হলে পরে কেনা হবে সেই গরু।





