আনসার-ভিডিপি একাডেমি পরিদর্শনে ৪ রাষ্ট্রদূত, পণ্য রপ্তানিতে আগ্রহ

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আনসার-ভিডিপি) একাডেমি পরিদর্শন করেছেন মালদ্বীপ, কসোভো, মরক্কো ও সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূতরা।
এ সময় তারা একাডেমিতে উৎপাদিত হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্পের পণ্য নিজ নিজ দেশে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের বিপণন ও রপ্তানি সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাষ্ট্রদূতরা একাডেমিতে পৌঁছান। পরিদর্শনকালে তারা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কারিগরি দক্ষতা, অবকাঠামো এবং সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।
পরিদর্শনকারী চার রাষ্ট্রদূত হলেন মালদ্বীপের শিউনীন রশীদ, কসোভোর লুলজিম প্ল্লানা, মরক্কোর লাল্লা বৌথাইনা এল কেরদৌদি এল কৌলালি এবং সিঙ্গাপুরের ফিলিপ ওং।
একাডেমিতে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রদূতদের স্বাগত জানান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। পরে তারা একাডেমির বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অবকাঠামো ও কারিগরি বিভাগ পরিদর্শন করেন।
এ সময় তারা হস্তশিল্প ও কুটিরশিল্প, গার্মেন্টস, প্রান্তিক শক্তি ও ওয়েল্ডিং বিভাগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এসব বিভাগের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পণ্য উৎপাদনের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।
একাডেমিতে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মান, নকশা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূতরা। তারা কয়েকটি হস্তশিল্পের পণ্যও কেনেন। পাশাপাশি এসব পণ্য নিজ নিজ দেশে নেওয়া, বিপণন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। পণ্য সরবরাহের বিষয়ে চুক্তি করার আগ্রহের কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
একাডেমি পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং আনসার-ভিডিপির সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং তাদের জন্য বিদেশে কাজের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মহাপরিচালক জানালেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপ্রেরণায় একাডেমিতে কুটিরশিল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এসব পণ্যের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মহাপরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, চার দেশের রাষ্ট্রদূত একাডেমিতে উৎপাদিত পণ্য তাদের নিজ নিজ দেশে নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের এ আগ্রহকে কুটিরশিল্পের পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাময় দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের তৈরি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে প্রশিক্ষিত জনশক্তির বিদেশে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে কি না, কিংবা কোন দেশে কী ধরনের পণ্য সরবরাহ ও জনশক্তি পাঠানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব, বাহিনীর সদস্য এবং দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




