সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার মো. ফজলুল হক আমিনী
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও এসআরবির যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে আমিনীকে গ্রেপ্তার করেন।
আমিনী দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এ হত্যা মামলার এক নম্বর আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়াল তিনজনে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম। তিনি জানান, গত সোমবার শামীম ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ধর্ম অবমাননাকর অভিযোগ উঠলে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শামীমের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। ওই দিন স্থানীয় একটি বাজারে শামীমকে প্রথম মারধর করা হয়।
গত মঙ্গলবার বিকালে তিনি স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তখন একদল লোক চেম্বার থেকে শামীমকে বের করে তাকে আবার মারধর করে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
পরে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে রাতে মিছিল নিয়ে হাসপাতালে হামলা হয়। সেখান থেকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার পেটানো হয়। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শামীম মারা যান।
এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার শামীমের বড় ভাই আব্দুল জলিল দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে মোক্তার হোসেন খান (৫৩) ও আসাদুল ইসলাম মোল্যাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে শামীম হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ব্লাস্ট। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেছেন, গ্রেপ্তার ফজলুল হক আমিনীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত।




