সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুই দফা পিটিয়ে হত্যায় গ্রেপ্তার ২

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার সুবর্ণাবাদ ও নাজিরের ঘের এলাকার পৃথক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের মৃত মাহতাব উদ্দিন খানের ছেলে মোক্তার হোসেন খান (৫৩) এবং নাজিরের ঘের গ্রামের রহিম বক্স মোল্লার ছেলে আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬)। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিলের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলায় ফেসবুক লাইভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ফজলুল হক আমিনীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্বজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে শামীম গালাগাল করেন। তখন এক ব্যক্তি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওই অডিওতে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে— এমন অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে লোকজনকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান ফজলুল হক আমিনী। এরপর উত্তেজিত লোকজন শামীমের বাড়ির গেটে ভাঙচুর চালান এবং তাকে স্থানীয় বাজারে নিয়ে মারধর করেন।
স্বজনদের দাবি, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে শামীম বিষপান করেন। পরে তাকে কুলিয়া এলাকার এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসকের চেম্বারে থাকা অবস্থায় শামীমকে আবারও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক হাজারের বেশি মানুষ গিয়ে শামীমের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে বের করেও মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ছোট ভাই তাহসিভ রহমান সাগরের অভিযোগ, শামীমের কথোপকথনের অডিও প্রথমে স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ে নিয়ে শোনানো হয়। পরে স্থানীয় জামায়াতের একদল নেতাকর্মী লোকজন জড়ো করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম গাজী। তার দাবি, চিকিৎসকের চেম্বারের পাশে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন; এ ঘটনায় জামায়াতের কোনো দলীয় সম্পৃক্ততা ছিল না। দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এইচ এম এমদাদুল হক এক প্রতিবাদলিপিতে দলটির সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেছেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জামায়াতকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন বলেছেন, প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনীসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।



