বিএম কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

বিএম কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: আগামীর সময়
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হয়েছে সংঘর্ষ। এতে আহত হয়েছেন জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিনসহ কয়েকজন। তবে মহানগর ছাত্রদলের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
সোমবার রাতে নগরীর জিয়া সড়কে জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আল আমিন ও বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতা সিরাজুল ইসলাম রাতুলের মধ্যে মারামারির ঘটনা কলেজ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি হয়ে ওঠে উত্তপ্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার পর রাতুলের অনুসারীরা কলেজের সামনের সড়কে ধারালো দেশীয় অস্ত্র, পাইপ ও লাঠি নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নেয়। পরে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে রাতুল ও তার অনুসারীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে নিজেকে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন সিরাজুল ইসলাম রাতুল। তার দাবি, সোমবার সন্ধ্যায় জিয়া সড়ক এলাকায় রাতুলের নেতৃত্বে বিএম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সোহানসহ কয়েকজন জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিবের ওপর হামলা করেন। খবর পেয়ে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএম কলেজে অবস্থান নেন রাতুল। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল। ব্যর্থ হয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করতে কলেজের সামনের সড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করা হয় এবং সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়।
তাসনিম আরও উল্লেখ করেন, জনভোগান্তি ও শান্তির স্বার্থে মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
অন্যদিকে সিরাজুল ইসলাম রাতুলের অনুসারী আফজাল হোসেনের দাবি, বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জোবায়েরের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরে অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাসে ঢুকেও তাদের মারধর করা হয়। এতে তাদের চার থেকে পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন জানান, অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




