জোবায়েরের ‘সুখের খামার’
দুই বছরে এক হাজার দুম্বার লক্ষ্য

ছবি: আগামীর সময়
মরুভূমির প্রাণী দুম্বা এখন বগুড়ার গ্রামের সবুজ মাঠে। বগুড়ার কাহালু উপজেলার বাঁকাদীঘি গ্রামের ‘সুখের খামারে’ তুর্কি জাতের দুম্বা পালন করছেন উদ্যোক্তা জোবায়ের ইসলাম। খামারে গরু, ছাগল, মাছের পাশাপাশি গাড়লও পালন করা হয়। শুধু শখ নয়, দেশীয় আবহাওয়ায় দুম্বার বংশবিস্তার ঘটিয়ে একসময় বাণিজ্যিকভাবে এর মাংস বাজারজাত করার স্বপ্ন তার। সেই স্বপ্নের শুরু হয়েছে ছয়টি দুম্বা দিয়ে; লক্ষ্য দুই বছরে খামারে এক হাজার দুম্বা।
দুম্বার মাংস দেশে এখনো উচ্চমূল্যের। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে এটি। এ বাস্তবতায় খামার বড় করে উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুম্বার মাংসের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার পরিকল্পনা করছেন জোবায়ের।
প্রায় আট মাস আগে নাটোর থেকে চারটি দুম্বা কেনেন জোবায়ের। দাম পড়ে সাড়ে ৬ লাখ টাকা। নতুন পরিবেশে প্রাণীগুলো মানিয়ে নেওয়ার পর আরও দুটি দুম্বা আনা হয়। এতে ব্যয় হয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। তবে নতুন প্রাণী পালনের অভিজ্ঞতা শুরু থেকেই মসৃণ ছিল না। খামারে জন্ম নেওয়া প্রথম দুটি বাচ্চার কোনোটিই বাঁচেনি। একটি জন্মের সময়ই দুর্বল ছিল। অন্যটিকে মা দুধ খাওয়ায়নি। তবে তৃতীয়বার জন্ম নেওয়া বাচ্চাটি সুস্থ আছে।
জোবায়ের ইসলামের পরিকল্পনা অবশ্য ছয়টি দুম্বায় সীমাবদ্ধ নয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে খামারে অন্তত এক হাজার দুম্বা তৈরির লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। এরপরই বাণিজ্যিকভাবে বাজারে দুম্বা সরবরাহের বড় পরিসরের উদ্যোগ নিতে চান। এজন্য স্থানীয় আবহাওয়ায় দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে— এমন দুম্বার বংশবিস্তারকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। এ কাজে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আলী আসগরের পরামর্শ নিচ্ছেন নিয়মিত।
জোবায়েরের মতে, দেশে দুম্বা পালনের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্য অনেক গবাদি পশুর তুলনায় এর পালন ব্যয় কম। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো।
কাহালু উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুল মালেকের ভাষ্য, শৌখিন খামার হিসেবে দুম্বা পালন লাভজনক হতে পারে। তবে প্রান্তিক খামারিদের জন্য এখনো এটি সহজলভ্য নয়। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় পুরোপুরি মানিয়ে নিতে প্রাণীগুলোর কিছুটা সময় লাগবে।



