শেরপুরে পাখি শিকারের অভিযোগে ৭ দিনের কারাদণ্ড

শিকার করা পাখি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা
শেরপুরে পাখি শিকারের অভিযোগে নেজামুল (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময় তার কাছ থেকে শিকারের সরঞ্জাম, ১২টি বক ও ৬টি বেগুনি কালেম উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শেরপুর সদর উপজেলার ধলা ও কামারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে কামারিয়া ইউনিয়নের আলীনাপাড়া গ্রামের পাখি শিকারি নেজামুলকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেন। সাজা দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
একই দিন বিকালে উদ্ধার করা বক ও বেগুনি কালেমগুলো অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট ও স্টিকারও বিতরণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শেরপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।
অভিযানে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রকৃতি-পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনি, স্বেচ্ছাসেবকসহ সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় পাখি আমাদের অন্যতম অনুসঙ্গ। তাই পরিযায়ী ও দেশীয় পাখি রক্ষায় আমাদের সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে।’
পাখি শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।



