নামমাত্র দামে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া

সংগৃহীত ছবি
ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিনামূল্যে চামড়া সংগ্রহ করেছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র মূল্য দিয়ে চামড়া কিনতে দেখা গেছে। ফলে সাধারণ মানুষ, মৌসুমি বিক্রেতা এবং চামড়ানির্ভর সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় গরু ও খাসির চামড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে কিনছেন। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বিক্রেতারা। অনেক স্থানে গরুর চামড়া মাত্র কয়েকশ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন কোরবানিদাতারা। আবার কোথাও কোথাও চামড়া বিক্রি না করে কোরবানির মাংসের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে গেছেন অংশগ্রহণকারীরা।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের ইচ্ছেমতো নির্ধারিত দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাবে অনেক এলাকায় চামড়া সংরক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে এতিমখানা, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যারা চামড়া বিক্রির অর্থের ওপর নির্ভরশীল, তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় এক বিক্রেতা জানালেন, সরকার যে মূল্য ঘোষণা করেছে, বাস্তবে তার অর্ধেক দামও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকেই কম দামে চামড়া বিক্রি করে দিয়েছেন। তার ভাষ্য, বাজারে কার্যকর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন।
স্থানীয় জনগণ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, চামড়ার সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে।






