কক্সবাজারে পানিবন্দি লাখো মানুষ

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে পানিবন্দি হয়ে ঘরে আটকা শিশুরা। ছবি: আগামীর সময়
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজার যেন একসঙ্গে একাধিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। কোথাও পাহাড়ধস, কোথাও পাহাড়ি ঢল, কোথাও নদীর উত্তাল পানি— সব মিলিয়ে জেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন হয়েছে প্লাবিত। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত এক লাখ মানুষ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এর আগের দুদিনে বৃষ্টি হয়েছে যথাক্রমে ২৭৭ ও ২৪০ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও অব্যাহত থাকতে পারে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ। এ কারণে কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে বহাল রাখা হয়েছে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত।
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে অন্তত দুই হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারীদের নিয়মিত মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র। জরুরি প্রয়োজনে ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। আরও এক হাজার প্যাকেট শুকনো খাবারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ঢেউটিনও।
তবে দুর্যোগের চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে জেলার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের জনপদগুলোয়। টানা বর্ষণ এবং মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ফাঁসিয়াখালী, চিরিঙ্গা, বরইতলী, ডুলাহাজারা, কৈয়ারবিল, সাহারবিল, কাকারা, বমুবিলছড়ি, পূর্ব বড় ভেওলা, কোণাখালী, বদরখালী ও ঢেমুশিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামের ভাষ্য, মাতামুহুরী নদীর পানি এর মধ্যে অতিক্রম করেছে বিপৎসীমা। গতকাল দুপুরে নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছিল ১১ দশমিক ৯৪ মিটার উচ্চতায়। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
‘জেলার ৩৮০ দশমিক ২৯ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৯ কিলোমিটার অতি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুতুবদিয়া ও মহেশখালীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধে জরুরি সংস্কার চলছে’— বলেছেন তিনি।




