করতোয়ার প্রাণ ফেরাতে বগুড়ায় গণশুনানি

ছবি: আগামীর সময়
খুলসী পয়েন্টের জলকপাট (রেগুলেটর) অপসারণ করে করতোয়া পুনঃখননের দাবি জানিয়েছে বগুড়াবাসী। নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
করতোয়ার সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণে গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এক গণশুনানি। বগুড়ার এনজিও ফোরাম মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তোলা হয় এসব দাবি। অংশ নেন নদীপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ, মৎস্যচাষী, কৃষক, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
করতোয়ার ভাটির এলাকা সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামের কবির হোসেন বললেন, ‘দূষিত নদীর পানি দিয়ে সেচ দেওয়ায় আমাদের এলাকার ধানের ফলন কমে যাচ্ছে। নদীর মাছ, ঝিনুক খেয়ে হাঁস মারা যাচ্ছে। গবাদিপশুর শরীরে ঘা হচ্ছে। আমার দেখা দুটি গরু মারাও গেছে।’
একই গ্রামের দেলোয়ারা খাতুন বললেন, ‘দূষণের কারণে হাঁস নদীতে ছাড়তে পারি না। এজন্য হাঁস পালা বন্ধ হয়ে গেছে... বিকল্প পানির ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে দূষিত নদীর পানি ব্যবহার করছে। নদীতে দূষিত কেমিক্যাল ছাড়ে রাতের বেলা, এ জন্য টেরও পান না গ্রামের লোকজন।’
বেলার রাজশাহী-রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল বলেছেন, ‘দূষণ বন্ধে বেলা জনস্বার্থে একাধিক মামলা করেছে এবং আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু আমরা দেখছি, তার কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না। খুলসী পয়েন্ট থেকে ৫ দশমিক ৩ কিলোমিটার নদী নিশ্চিহ্ন। এটি প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করে পুনরায় খনন করতে হবে।’
গণশুনানিতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘করতোয়া নদী পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে। তবে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে খুলশীর স্লুইস গেট অপসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।’
করতোয়া নদী পুনঃখননের জন্য প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে বলে জানালেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান হক।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন বলেছেন, ‘বগুড়াকে সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।’
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) চেয়ারম্যান খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে আরও ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. সামসুদ্দীন ফিরোজ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শারমিন আক্তার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মোছা. রিপা পারভীন।




