আগামীর সময়

পাবনায় বাড়ছেই হামের রোগী, শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট

পাবনায় বাড়ছেই হামের রোগী, শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট

ছবিঃ আগামীর সময়

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। রাজধানীর মহাখালী সংক্রমণ ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছরেই ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ১০ জেলায় রোগটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে বালে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

এরই মধ্যে পাবনায় হঠাৎ করেই হাম রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। জেলাজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ৩২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দুজন প্রাপ্তবয়স্কও রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এ পর্যন্ত মোট ১২৫ জন হামে আক্রান্ত হয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ।

সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গত রাতেই নতুন করে ৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বাধ্য হয়ে বারান্দায় কাঁচঘেরা কক্ষে গাদাগাদি করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক শিশুকে মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার হারিয়াবাড়িয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম জানান, শনিবার তার ৯ মাস বয়সী নাতিকে ভর্তি করালেও শয্যা না থাকায় মেঝেতে থাকছেন। গরম ও মশার কারণে পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। আশুতোষপুর গ্রামের স্মৃতি খাতুন বললেন, তার ৪ মাস বয়সী মেয়ে প্রথমে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়। পরে শরীরে লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়। হাসপাতালে ভর্তি করলেও সুস্থ হতে সময় লাগছে বলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

আবার অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান জানান, ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে জরুরি ভিত্তিতে আইসোলেশন ইউনিট চালু করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, সাধারণত ৯ মাস বয়স থেকে হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু, যা উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৃথক আইসোলেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের জ্বর ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শেয়ার করুন: