রাজশাহী
যাত্রী সেজে নারীকে কুপিয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

ছবি: আগামীর সময়
গন্তব্য ছিল বাড়ি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহী রেলস্টেশনে নেমে একটি সিএনজিচালিত মাহিন্দ্রায় উঠেছিলেন মনি বেগম। ভেবেছিলেন আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিবারের কাছে পৌঁছে যাবেন। কিন্তু একই গাড়িতে যাত্রীবেশে বসে ছিল ছিনতাইকারী। কিছু দূর এগোতেই শুরু হয় পূর্বপরিকল্পিত হামলা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় মালামাল লুটে নিয়ে তাকে ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মূল হোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
আজ বুধবার দুপুরে পবা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও মুখপাত্র মো. গাজিউর রহমান।
তিনি জানালেন, বাগমারার বাসিন্দা মনি বেগম (৩৮) গত রবিবার (১২ জুলাই) শরীয়তপুরে বাবার বাড়ি থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পরদিন সকাল ৭টার দিকে তিনি রাজশাহী রেলস্টেশনে পৌঁছে বাগমারাগামী একটি সিএনজিচালিত মাহিন্দ্রায় ওঠেন। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে সিএনজিটি পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নের তালগাছি ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীবেশে থাকা এক ব্যক্তি ও সিএনজিচালক তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। এরপর ধারালো চাকু দিয়ে তার গলা ও পিঠে একাধিক আঘাত করা হয়। হামলার পর ছিনিয়ে নেওয়া হয় নগদ পাঁচ হাজার টাকা, একটি মোবাইল ফোন, একটি কালো ট্রাভেল ব্যাগ এবং কাপড়-চোপড়সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় মালামাল।
তিনি আরো জানালেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনায় পবা থানা পুলিশ ও আরএমপির সাইবার ক্রাইম টিম যৌথভাবে তদন্তে নামে। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে মূল আসামি সিএনজিচালক ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয় ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন, কাপড়-চোপড় এবং ঘটনায় ব্যবহৃত সিএনজিচালিত মাহিন্দ্রা। পরবর্তীতে অপর আসামি তরিকুল ইসলামকে নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের পর পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন বললেন, এ ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীর স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাহমখদুম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সুকুমার মোহন্ত এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পবা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ননী গোপাল উপস্থিত ছিলেন।





