বিঘ্ন হচ্ছে উৎপাদন
- সোনারগাঁয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎসংকটে বিপাকে পড়েছেন ভারী এবং কুটিরশিল্পসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ সময় গ্যাসের চাপ কম থাকা এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এতে একদিকে বাড়ছে উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে কমছে আয়-রোজগার। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
হস্ত ও কুটির শিল্পোদ্যোক্তা আব্দুল আউয়ালের ভাষায়, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কমে গেছে উৎপাদন। একই সঙ্গে বেড়ে যাচ্ছে খরচও। এ সমস্যার সমাধান না হলে কুটিরশিল্পে দেখা দেবে বিপর্যয়।’
কুটিরশিল্পের এ সংকটের পাশাপাশি বড় শিল্পকারখানাগুলোতেও কমেছে উৎপাদন। সোনারগাঁও জুট ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাজি মো. আফতাব উদ্দিন মোল্লার দাবি, তাদের কারখানায় ২৪ ঘণ্টাই শ্রমিকরা কাজ করেন; কিন্তু বর্তমানে দিনে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। বাকি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।
বিদ্যুৎসংকটের প্রভাব কতটা গভীর, তার হিসাবও দিয়েছেন আফতাব উদ্দিন মোল্লা। তিনি বললেন, ‘বিদ্যুৎসংকটের কারণে সোনারগাঁও জুট ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন কমে গেছে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চালু রাখা যাচ্ছে না যন্ত্রপাতি। ফলে উৎপাদন কমার পাশাপাশি কারখানার ব্যয়ও বাড়ছে।’
শিল্পকারখানার উৎপাদন কমলে তার প্রভাব শুধু মালিকের ব্যবসায় সীমাবদ্ধ থাকে না। কর্মসংস্থানেও সরাসরি প্রভাব পড়ে তার। উৎপাদন কমে যাওয়ায় কমছে শ্রমিকদের কাজের সুযোগ ও আয়। কারখানার শ্রমিক আক্তার হোসেন বললেন, ‘নিয়মিত উৎপাদন না হলে দৈনিক মজুরি ও অতিরিক্ত কাজের সুযোগ কমে যায়। এতে পরিবার নিয়ে পড়তে হচ্ছে বাড়তি চাপের মধ্যে।’
অবশ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির কথা জানিয়েছে সোনারগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. খোরশেদ আলমের ভাষ্য, ‘চাহিদা অনুযায়ী লোড না পাওয়ায় গত দুদিন লোডশেডিং হয়েছে। এখন পাওয়া যাচ্ছে পর্যাপ্ত লোড। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে বিদ্যুৎ।’
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস মিললেও গ্যাসসংকট এখনো বড় উদ্বেগের কারণ। তিতাস গ্যাসের মেঘনাঘাট অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুরজিৎ সাহা মনে করেন, গ্যাসসংকট জাতীয় সমস্যা। তার দাবি, মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পকারখানায়ও গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সংকট সমাধানে কাজ করছে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলা।






