স্বজনদের বুকে রক্তাক্ত স্মৃতি
- হবিগঞ্জের ১৫ শহীদ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হবিগঞ্জে প্রাণ হারান ১৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ৫ আগস্ট বানিয়াচংয়ে। সেদিন পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে শিশু-কিশোর, শ্রমজীবী, সাংবাদিকসহ নিহত হন ৯ জন। আন্দোলনকারীদের হামলায় প্রাণ হারান এক পুলিশ উপপরিদর্শকও। পরদিন হাসপাতালে মারা যান গুলিবিদ্ধ আরও একজন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি ভুলতে পারেনি নিহতদের পরিবার। আর্থিক সহায়তা মিললেও স্বজন হারানোর শূন্যতা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ প্রতিদিনই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ৫ আগস্ট সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল বানিয়াচংয়ের গ্যানিংগঞ্জ বাজার হয়ে থানার সামনে গেলে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের সঙ্গে। আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল ছুড়লে রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে পুলিশ। ঘটনাস্থলেই নিহত হন কয়েকজন। আহতদের মধ্যে পরদিন হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। পরে নিহতদের পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে হয় পৃথক দুটি মামলা। বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
প্রত্যেক পরিবারেরই রয়েছে স্বজন হারানোর আলাদা গল্প। রঙমিস্ত্রি তোফাজ্জল মিয়ার বিয়ে হয়েছিল মৃত্যুর মাত্র দেড় মাস আগে। স্ত্রী শাহিনা আক্তারের কণ্ঠে বিষাদের স্বর, ‘নতুন সংসার শুরু করেছিলাম। হাতে মেহেদির রঙ শুকানোর আগেই স্বামীকে হারালাম।’






