তীর সংরক্ষণের কাজও তিস্তার পেটে

তিস্তার তীর সংরক্ষণ বাঁধ— আগামীর সময়
তিস্তার ভাঙনে গত কয়েক বছর ধরে সর্বশান্ত লালমনিরহাট সদরের হরিণচড়া ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার সীমান্তবর্তী মর্ণেয়া ইউনিয়নের মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে চলতি বছরই ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণের কাজ (স্থানীয়দের ভাষায় বাঁধ) করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
ভাঙনরোধসহ তিন গ্রামের ১৫০০ পরিবারের ঘরবাড়ি রক্ষায় এই কাজেও নিশ্চিন্ত হতে পারেননি নদীপাড়ের মানুষ। কাজ করার কয়েক মাসের মধ্যেই সেই ‘বাঁধ’ বিলীন হচ্ছে তিস্তায়। এমন পরিস্থিতিতে ফের উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, ইতোমধ্যে ভাঙনরোধের কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিস্তার পানি কয়েক দিন ধরে ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, দ্রুত পানি বৃদ্ধি ও কমে যাওয়ার কারণে তীরবর্তী এলাকায় দুর্ভোগের পাশাপাশি নদীভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডান তীর রক্ষায় নির্মিত গ্রোয়েনের পাশাপাশি এবার তালপট্রি এলাকায় নতুন তীর সংরক্ষণকাজও ভাঙনের মুখে পড়েছে।
বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ১১টায় ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীপাড়ের পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ বছর প্রথম গত ২৩ জুন দুপুরে ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হয়। যদিও ওইদিন রাত থেকেই পানি কমতে শুরু করে। এর পরে পানি ৩৩ সেন্টিমিটার নিচে নেমে আসে। কিন্তু রবিবার সকালে ফের পানি বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় ধীরে ধীরে ভাটি এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় ব্যারাজ পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি।
সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে তালপট্রি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙনরোধে মাত্র কয়েক মাস আগে লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্রি হয়ে নরশিং পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়। বাঁধ হিসেবে যার ওপর দিয়ে চলাচল করে তিন গ্রামের মানুষ। কিন্তু তিস্তার স্রোতে গত রবিবার থেকে সেই বাঁধ নদীতে বিলীন হচ্ছে।
পশ্চিম হরিণচড়া এলাকার আব্দুল হাকিম ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ‘দুলু মন্ত্রীক ধরি এদ্দিন (এত দিন) পর বাঁধ হইলো। কয় মাসের মাথায় সেটাও যদি নদীত যায়, তাইলে হামারগুলার (আমাদের) মরণ ছাড়া বুদ্দি (উপায়) নাই।’
তালপট্রি এলাকার নূর মোহাম্মদ ও নরশিং এলাকার মতলেব আলী শঙ্কা প্রকাশ করেন, বাঁধে যে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে তাতে বিলীন হতে খুব সময় লাগবে না। আমরা তিন গ্রামের মানুষ আতঙ্কে আছি।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেছেন, ‘ভাঙনরোধে ওই এলাকায় তীর সংরক্ষণের কাজ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ না থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম অংশে এই কাজ করা হয়। দু’দিন ধরে সেখানে ভাঙন শুরু হয়েছে, ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’





