পদ্মাসেতু নদীশাসন বাঁধে ১ হাজার ৩০০ গাছের চারা রোপণ

ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মাসেতু সংলগ্ন নদীশাসন বাঁধ এলাকায় বৃহৎ পরিসরে শুরু হয়েছে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। পর্যটকদের জন্য ছায়াঘেরা ও মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে পদ্মানদীর তীরবর্তী বেরিবাঁধজুড়ে রোপণ করা হচ্ছে ১ হাজার ৩০০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাদবরেরচর এলাকার নদীশাসন বাঁধ থেকে কাঁঠালবাড়ী পর্যন্ত বিস্তৃত অংশজুড়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ কর্মসূচি। ইতোমধ্যে বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।
কর্মসূচির আওতায় কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, জারুল, সোনালু ও পলাশসহ বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক ও ছায়াদানকারী গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মাসেতু চালুর পর নদীশাসন বাঁধ এলাকা একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে ঘুরতে আসেন। বিশেষ করে ঈদ ও অন্যান্য ছুটির সময়ে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। তবে পর্যাপ্ত গাছপালা না থাকায় খোলা রোদে দুর্ভোগ পোহাতে হয় দর্শনার্থীদের।
তাদের মতে, বেরিবাঁধজুড়ে গাছগুলো বড় হয়ে উঠলে কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো এলাকা সবুজে আচ্ছাদিত হবে। একদিকে পদ্মার বিশাল জলরাশি, অন্যদিকে সারিবদ্ধ গাছের ছায়া এলাকাটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে পর্যটকরাও আরামদায়ক পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, উপজেলা উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ কর্মসূচি। গত শনিবার বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে এর উদ্বোধন করেন। এ সময় শিবচর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলছিলেন, নদীশাসন বাঁধের পুরো সীমানাজুড়ে গাছ লাগানোর কাজ রয়েছে চলমান। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সার্বিক সহযোগিতা করছেন এ কার্যক্রমে।
বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন বললেন, পদ্মাপাড়কে আরও আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতেই নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। গাছগুলো বড় হলে পুরো নদীশাসন বাঁধ এলাকায় একটি নান্দনিক ও ছায়াঘেরা পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এতে যেমন পরিবেশের উন্নয়ন হবে, তেমনি পর্যটনের সম্ভাবনাও আরও বিকশিত হবে।
পরিবেশ সচেতন মহলের দাবী, পদ্মাসেতুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন এলাকাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।






