জ্ঞান ফিরলেই মেয়েকে খুঁজছেন রামিসার মা

সংগৃহীত ছবি
যে বয়স স্কুলে যাওয়ার, নিশ্চিন্তে খেলাধুলা করে সময় কাটানোর, সেই বয়সে শিশু রামিসা এখন শায়িত অন্ধকার কবরে। গতকাল বুধবার রাতে মুন্সিগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে রামিসাকে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় রামিসার মরদেহ।
ঘটনার পর থেকেই বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন রামিসার মা পারভিন বেগম। ‘আমার রামিসা কোথায়? ওকে এনে দাও’— বলে মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। জ্ঞান ফিরলে বলছেন— ‘আমার মেয়েটা কই? ও স্কুলে যাবে, ভাত খাবে। ও তো একা খেতে পারে না...।’
রামিসার পোষা একটি বিড়াল ছিল। রামিসার বোন রাইসা আক্তার জানালেন, ‘গতকাল থেকেই রামিসার বিড়ালটা ঠিকমতো খাচ্ছে না। একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছে।’
নিজের হাতে ঠিকমতো খেতে না পারলেও বিড়ালকে নিজ হাতেই খাইয়ে দিতো রামিসা, যোগ করেন রাইসা।
মেয়ের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। বুধবার বিকালে পল্লবীতে রামিসার জানাজায় উপস্থিত হওয়ার মতো শারীরিক অবস্থা ছিল না তার। এদিন সকালে গণমাধ্যমে একরাশ হতাশা ছিল তার কণ্ঠে, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই।’
এদিকে রামিসার হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দেশের মানুষ। সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনার বিচার দাবি করছেন তারা। তার হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে তার বাসার সামনে জমায়েত হয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রামিসার বাসার সামনে মানববন্ধন করেছে পল্লবীর পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল রামিসা আক্তার। রোল নম্বর ছিল এক।
মানববন্ধন থেকে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান বিচার দাবি করেন। তার ভাষায়, ‘ফুলের মতো মেয়েটাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, আমরা এর বিচার চাই।’
শুধু তার স্কুলের তরফেই নয়, আরও নানা ব্যানারে, নানা বয়স ও পেশার মানুষ ছুটে আসছেন পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে। তাদের সবার দাবি একটাই, রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি যেন দ্রুত নিশ্চিত করা হয়।
প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা করেছেন রামিসার বাবা। মামলায় সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, রামিসাকে নিজের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করেন সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ একাধিক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ওই বাসার সামনে যান। কিন্তু এর আগেই সোহেল রামিসার মাথা কাটা মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে তার মাথা উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেল আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।




