ময়মনসিংহ মেডিকেল আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, পেলেন নানা অনিয়ম

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
এ সময় চিকিৎসকদের হাজিরা খাতার সঙ্গে ডিউটি রোস্টার মিলিয়ে একাধিক চিকিৎসককে অনুপস্থিত এবং কয়েকজনকে নির্ধারিত সময়ের পরে হাসপাতালে আসতে দেখেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
আজ শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব অনিয়মের চিত্র দেখতে পান।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বাথরুম ও ফ্লাশের বেহাল অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যার মধ্যে সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও হাসপাতাল পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।
হাসপাতালের ময়লার স্থানে ক্যানুলা ও সিরিঞ্জ পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাফিলতি বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অনেক চিকিৎসককে অনুপস্থিত পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেকে সকাল ১০টা, আবার কেউ পৌনে ১১টায় হাসপাতালে এসেছেন। এ বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হাসপাতালের বাথরুমগুলোর অপরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে সিটি করপোরেশনের সহায়তায় এগুলো পরিষ্কার করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করে তাকে দেখানোর নির্দেশও দেন তিনি।
ক্যানুলা ও সিরিঞ্জ পাওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তার কাছে পাঠাতে হবে। সেখানে কোনো গাফিলতি বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পেডিয়াট্রিক আইসিইউ) জনবলসংকটের বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আসে। এ সংকট নিরসনে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি এবং মা ও শিশুর জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের কারণে স্বাস্থ্য খাতে যে বিশাল অব্যবস্থাপনা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ শুরু করেছি। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে একটি বৈপ্লবিক টেন্ডার আহ্বান করা হবে। সব উপজেলায় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার হবে।’
তিনি আরও বলেন, পাঁচ হাজার চিকিৎসক এবং আড়াই হাজার মিডওয়াইফ ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টারে রূপান্তর করা হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে শিগগিরই স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।




