দ্রুত বাড়ছে মাতামুহুরীর পানি, চকরিয়ার ৬০ গ্রাম প্লাবিত

মাতামুহুরী নদী— সংগৃহীত
টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে চিরিংগা সেতু পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার অন্তত ৬০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাতামুহুরী নদীর চিরিংগা পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫ দশমিক ৮ মিটার। বুধবার সকাল ৯টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ৫ দশমিক ৩ মিটার, অর্থাৎ বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। তবে মাতামুহুরীর উজানে বান্দরবানের লামার শহর পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কাকারা ইউনিয়নের মাঝেরফাঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল আমিন বললেন, ‘আজ বুধবার ভোর পাঁচটা থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি হিসাবে মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও, বাস্তবে নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।’
কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বাসিন্দা সাজ্জাদ হোছাইন জানান, ‘ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। গত ১৫ বছরে এ রকম টানা ভারী বৃষ্টি হয়নি। নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।’
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চকরিয়ার বরইতলী, ফাঁসিয়াখালী, কৈয়ারবিল, কাকারা, লক্ষ্যারচর, সুরাজপুর-মানিকপুর, হারাবং, খুটাখালী, চিরিংগা, ডুলাহাজারা এবং মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, পূর্ব বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, ভেওলা মানিকচর, পশ্চিম ভেওলা ও বদরখালী ইউনিয়নসহ অন্তত ৬০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেছেন, ‘সকাল থেকে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীতে পানি বাড়ছে। কিছু নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম বলছিলেন, ‘মাতামুহুরী নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’





