দেওয়ানগঞ্জ
শিশু ধর্ষণচেষ্টার মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের ৮ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা ২ লাখ

আসামি সাইদুর রহমান ওরফে সাইদুর মুন্সি
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে সাইদুর রহমান ওরফে সাইদুর মুন্সি (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সাইদুর রহমান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সাকোয়াপাড়া গ্রামের মৃত জুরাল মুন্সির ছেলে। তিনি স্থানীয় মদিনাতুল উলুম নুরানি মডেল মাদ্রাসার শিক্ষক।
মামলার অভিযোগ ও নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মদিনাতুল উলুম নুরানি মডেল মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির আট বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন শিক্ষক সাইদুর মুন্সি। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল খালেক বাদী হয়ে ৩ মে দেওয়ানগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ফজলুল হক জানান, মামলায় মোট পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামি সাইদুর রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মোবারক হোসেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা-বাবা। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বলেন, মামলার এ রায় ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য খুশির বার্তা। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে একপর্যায়ে অসহায় পরিবারটি মামলা থেকে সরে যেতে চেয়েছিল। তখন তিনি তাদের সাহস জুগিয়ে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন এবং মামলা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেন।




