আদালতের আদেশের পরও মেয়েকে নিতে বাবা-মায়ের টানাটানি

সংগৃহীত ছবি
বাবা-মায়ের জিম্মায় না থেকে নিজের জিম্মায় থাকার আদেশ পেয়েছেন বগুড়ার আদমদীঘির পুলিশ সদস্য রানা মাসুদের মেয়ে তাছনিয়া তামান্না। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। তবে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার পর তামান্নাকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চান তার বাবা-মা। এ সময় তাকে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা ঘিরে হাত ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ সদস্যদের।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়ে তাছনিয়া তামান্নার সঙ্গে জয়পুরহাটের শহীদ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১ মে তামান্নাকে নিয়ে পালিয়ে যান শহীদ। এ ঘটনায় আদমদীঘি থানা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে অভিযোগ করে আদালতে মামলা করেন রানা মাসুদ। পরে আদালতের নির্দেশে ৭ মে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়।
এরপর সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন রানা মাসুদ। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার বিরুদ্ধে নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তামান্না। এ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রানা মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে ২৩ জুন বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে তামান্নাকে উদ্ধার করে। এ সময় শহীদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তামান্নাকে চার মাসের জন্য রাজশাহীর একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।
আদালতে ২২ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তামান্না জানান, শহীদ হোসেনের সঙ্গে তার চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি শহীদের সঙ্গে গিয়ে বিয়ে করেন। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করেছেন বলে জানান তামান্না।
সোমবার তামান্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় বগুড়ার আদমদীঘি আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হেনা সিদ্দিকী তাকে নিজের জিম্মায় থাকার আদেশ দেন। তবে আদালত থেকে বের হওয়ার পর বাবা-মা তাকে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বগুড়া সদর থানার ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তামান্নাকে বগুড়া সদর থানার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, তামান্নার বাবার করা অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন শহীদ হোসেন।




