বগুড়া
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলে ‘অংশ নেওয়ায়’ বিএনপি নেতা বহিষ্কার

সংগৃহীত ছবি
বগুড়ায় ফারুক হোসেন নামে এক বিএনপির নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বগুড়া বিএনপির ফেসবুক পেইজে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে পোস্ট করা হয়।
বহিষ্কৃত নেতা ফারুক হোসেন বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য এবং বগুড়া শহর বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
ছেলের আন্দোলনে বহিষ্কারের দাবি নাকচ করেছেন বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। তবে ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলে অংশ নেওয়ার কারণেই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফারুক হোসেনের ছেলে সিফাত হোসেন। তিনি সরকারি শাহ সুলতান কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেন সিফাত। দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহরের সাতমাথা এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সিফাতের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার বাগবিতণ্ডা হয়।
পরে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে ঘরে ফিরে যায়।
এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার পর সন্ধ্যার দিকে ফারুক হোসেনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিষয়টি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে ফারুক হোসেন বলেছেন, আমাকে কোনো নোটিস ছাড়াই তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার ছেলের বয়স ১৮ বছর। সে ছাত্রশিবিরকে সমর্থন করে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছেলে অংশ নেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফারুক হোসেন আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এ জন্য পরিকল্পিতভাবে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কিন্তু ফারুক হোসেনের এমন দাবি অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বগুড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু। তিনি বলেছেন, ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল। সংগঠনবিরোধী এসব কাজের জন্য প্রায় ৭ মাস আগে তাকে কারণ দর্শানোও হয়েছিল। এখন গতকাল তার ছেলে আন্দোলনে ছিল। এজন্য অনেকে মনে করছেন ছেলের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
তার ছেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলন করতে পারে, অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের যুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু সেটা ভিন্ন বিষয়। তার সঙ্গে এই বহিষ্কারের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি।





