জ্বালানি সংকট, আশুলিয়ার মোটরবাইক গ্যারেজে ব্যবসায়ীক মন্দা
- মোটরবাইক চালানো কমিয়ে দিয়েছেন বাইকাররা

ছবি: আগামীর সময়
সারাদেশের মতো শিল্পাঞ্চল আশুলিয়াতেও জ্বালানি সংকট প্রকট। পাম্পগুলো থেকে অকটেন বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে চারদিন পরপর।প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক বরাদ্দ পাঁচশ টাকার অকটেন। আবার এই অকটেন কিনতে মোটরসাইকেল চালকদের ঘন্টার পর ঘন্টা পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অনেক মানুষই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে বের হচ্ছেন না। মোটরবাইক চালানো কমিয়ে দিয়েছেন বাইকাররা।
মোটরসাইকেলের ব্যবহার কমে আসার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গ্যারেজগুলোতে। আগের মতো বাইকের কোন ত্রুটি সারাতে গ্যারেজগুলোতে আসছেন না চালকেরা। এতে দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ীক মন্দা। গ্যারেজ ভাড়া, কর্মচারীর বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক গ্যারেজমালিককে।
এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা করছেন গ্যারেজ মালিকরা।
সরেজমিনে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলের গ্যারেজ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ গ্যারেজই ফাঁকা। অলস সময় পার করছেন টেকনিশিয়ানরা।
আশুলিয়ার ইউনিক এলাকার আবির এন্টারপ্রাইজের স্বস্তাধিকারী আমিনুল ইসলাম আবির জানান, জ্বালানি সংকট তৈরীর আগে প্রতিদিন তার গ্যারেজে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলের ছোট-বড় সার্ভিসের কাজ করা হতো। তবে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার পর থেকে দিনে তারা ২/১টি মোটরসাইকেলের সার্ভিসের কাজ করেন। আবার কোন কোন দিন একটি মোটরসাইকেলের কাজও হয় না।
এমন পরিস্থিতিতে গ্যারেজ ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা নিয়ে প্রতিদিন দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন এই গ্যারেজ মালিক।
আশুলিয়ার নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ফেলুনগর এলাকার শিলাবৃষ্টি নামে মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক ও টেকনিশিয়ান বিকাশ রায়ের অবস্থাও শোচনীয়।
তিনি জানান, রোজার শেষ দিকে যখন জ্বালানি সংকট তৈরী হয়, তখন থেকেই গ্যারেজে মোটরসাইকেলের সার্ভিসের কাজ কমতে শুরু করে।
তবে সম্প্রতি কাজের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলে জানান বিকাশ।
বিকাশ বললেন, ‘পাম্প থেকে অকটেন কেনা এতটাই কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা জরুরী প্রয়োজনে বাইক ব্যবহার করেন তারাই শুধু এখন ব্যবহার করছেন। এরবাইরে অধিকাংশ মানুষজন বাইকের ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে গ্যারেজগুলোতে কাজকর্ম কমে গিয়েছে।’
আশুলিয়াতে মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিকদের কোন সমিতি বা সংগঠন না থাকলেও গ্যারেজ মালিকরা জানান, আশুলিয়াতে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত পাঁচশ মোটরবাইকের গ্যারেজ আছে। আর এসব গ্যারেজের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

