রাস্তার ইট তুলে নিয়ে বিক্রি করলেন ইউপি সদস্য!

বাঁ থেকে ইউপি সদস্য মাসুদ রানা, বিক্রি করা ইট ও কর্দমাক্ত রাস্তাটি। ছবি: আগামীর সময়
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে রাস্তার সলিংয়ের ইট তুলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। নতুন রাস্তা হবে, এই আশা দিয়ে সরানো হয় পুরনো ইট। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি নতুন রাস্তার কাজ। ফলে কর্দমাক্ত রাস্তায় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাটি ঘটেছে চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার হাজিরপাড়া ও উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী রইশ্যার বাড়ির সামনের চৌপল্লী-আলাদাদপুর সড়কে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজিরপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাসুদ রানা সলিংয়ের ইট তুলে একই এলাকার আব্দুস শহীদ ও আহমেদ কবিরের কাছে বিক্রি করে দেন ২৫ হাজার টাকায়।
স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উত্তর জয়পুর ইউনিয়নে জামায়াতের উদ্যোগে মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য কাঁচা রাস্তায় ইটের সলিং করা হয়। পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৭৮ মিটার সড়কে ব্লক বসিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রায় ৭০ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়।
কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরহাম বিল্ডার্স। টেন্ডারের প্রায় ১৫ দিনের মাথায় রইশ্যার বাড়ির সামনের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিটার সলিংয়ের ইট তুলে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্রি হওয়া ইটের কিছু অংশ দেখা গেছে পূর্ব আলাদাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে।
ইট তুলে নেওয়ার পর রাস্তাটিতে পানি জমে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে চলাচলের। এটি চৌপল্লী ও আলাদাদপুর সড়কের সংযোগ পথ হওয়ায় প্রতিদিন রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে অনেক যানবাহন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহাগ জানান, রাস্তার কাজ শুরু হবে জানিয়ে গত রমজানে মাসুদ মেম্বার ইটগুলো বিক্রি করে দেন। রাস্তার বরাদ্দ আনতে খরচের কথা বলে স্থানীয়দের কাছ থেকেও একাধিকবার টাকা নেওয়া হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত কাজ শুরু না হওয়ায় প্রতিদিন দুর্ভোগ বাড়ছে এবং ঘটছে দুর্ঘটনাও।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মাসুদ রানা বলেছেন, রাস্তার বরাদ্দ আনতে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করতে তার প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
তার দাবি, ‘সলিংটি সরকারি অর্থায়নে নয়, জামায়াতের উদ্যোগে করা হয়েছিল। তারাই পরে ইট তুলে আব্দুস শহীদ ও আহমেদ কবিরের কাছে বিক্রি করেছেন।’
হাজিরপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি ফয়েজুল ইসলাম খোকন বলেছেন, ‘উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুনুর রশিদের উদ্যোগে সলিংটি করা হয়েছিল। রাস্তার প্রকল্পটি অনুমোদন করাতে মাসুদ রানার কিছু খরচ হয়েছে। সে কারণেই তাকে কিছু অর্থ দেওয়ার বিষয় ছিল। পরে তিনি ইটগুলো বিক্রি করে দেন।’
ঠিকাদার আলী আহমেদ রকি জানিয়েছেন, ‘৭০ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫৭৮ মিটার ব্লকের রাস্তা নির্মাণের কাজ তার প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছে। পরে তিনি কাজটি জাহাঙ্গীর নামে এক ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্ষার কারণে এখনো কাজ শুরু করা যায়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।’
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন জানান, রাস্তার ইট বিক্রি করার কোনো এখতিয়ার কারও নেই। বিষয়টি তার নজরে আসেনি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





