রাজশাহী
রক্তচাপ মাপাতে গিয়ে 'মারধরে' রিকশাচালকের মৃত্যু

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাতের শহরে রিকশা চালিয়েই সংসার চলত মো. পলাশের। বুধবার (১২ আগস্ট) রাতেও অসুস্থ শরীর নিয়ে বের হয়েছিলেন রক্তচাপ মাপাতে। কিন্তু সেই রাতেই আর বাড়ি ফেরা হলো না ৪৫ বছর বয়সী এই রিকশাচালকের।
রাজশাহী নগরের মালোপাড়া এলাকায় রিকশা রাখা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, মারধরের কারণেই পলাশের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করতে থানায় এজাহারও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে মালোপাড়া এলাকার একটি ওষুধের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত পলাশ নগরের রাজারহাতা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পলাশ আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। রাতে রক্তচাপ মাপানোর জন্য তিনি মালোপাড়া এলাকায় একটি ওষুধের দোকানে যান। সেখানে তার রিকশা রাখার কারণে সামান্য যানজট তৈরি হয়। এ সময় পাশের সীমান্ত হোমিও হলের মালিক ও কর্মচারীরা তাকে রিকশাটি সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে পলাশের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন অসুস্থ অবস্থায় পলাশকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পলাশের মৃত্যুর পর তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেকের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম বলেছেন, পলাশ অসুস্থ ছিলেন। রক্তচাপ মাপাতে এসে রিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত হোমিও হলের মালিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পুলিশ গিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে পলাশের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় হত্যার অভিযোগ এনে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
বোয়ালিয়া থানার ওসি মাছুমা মুস্তারী জানালেন, রাত ৩টার দিকে সীমান্ত হোমিও হলের মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে পরিবারের সদস্যরা একটি এজাহার দিয়েছেন। মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ বলছে, পলাশের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে। মারধরের সঙ্গে তার মৃত্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।







