সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত
ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ ববি শিক্ষার্থীদের

নিরাপদ সড়ক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
সড়ক দুর্ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়ক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন দপদপিয়া সেতুতে বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। পরে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
নিহত শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। দুর্ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি জাহিদ আহনাফ।
এ দুর্ঘটনায় থ্রি-হুইলারের রিফাত নামের এক যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়া আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় চার দফা দাবি জানান তারা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়ক মেরামত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাস সার্ভিস চালু এবং ক্যাম্পাসের উভয় পাশে ফুটপাত নির্মাণ ও তা চালু করা।
আন্দোলনরত বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সব দাবি মেনে নেওয়া না হবে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। আমরা দ্রুত এসব দাবির বাস্তবায়ন চাই।’
আরেক শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর আগেও সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব দাবি পূরণ করা হয়নি। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস হলো রক্ত না ঝরা পর্যন্ত কোনো দাবি পূরণ হয় না।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।





