শিক্ষামন্ত্রী স্ট্যান্টবাজি-টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ : হাসনাত আব্দুল্লাহ

‘জুলাই পথযাত্রা’ ও ‘জুলাই সমাবেশ’ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ চৌরাস্তা মোড়ে পথযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ—সংগৃহীত
চলমান বন্যা পরিস্থিতিতেও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করায় শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে হাসনাত বললেন, ‘আমরা একজন শিক্ষামন্ত্রী পেয়েছি। যিনি স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ। ক্যামেরায় স্ট্যান্টবাজি। তিনি সবজায়গায় গিয়ে বলেন, নকল আর চলবে না। ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীরা আপনাদের দেখিয়ে দিয়েছে, এই স্ট্যান্টবাজি আর চলবে না। হাঁটু সমান-বুক সমান পানিতে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আপনি ডুবিয়ে ডুবিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন। এমন প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন যেখানে দুইটি সৃজনশীল প্রশ্ন ভুল দিয়ে রেখেছেন। উত্তর মেলাতে না পারলে পরীক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা তখন কী ধরনের হয় চিন্তা করা যায়। আপনারা এটি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ পর্যন্ত করলেন না। শিক্ষার্থীদের বলেন, মাদকাসক্ত। শিক্ষামন্ত্রী যাদের ফার্মের মুরগী বলছেন, এই ফার্মের মুরগীরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। ফার্মের মুরগীদের কারণেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন।’
শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে হাসনাত বলছিলেন, ‘শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয়। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপিরিমেন্ট বন্ধ করুন। কিছু দিন পর পর একটি নতুন জিনিস শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেন। এই স্ট্যান্টবাজি আর চলবে না।’
আজ মঙ্গলবার বিকালে ‘জুলাই পথযাত্রা’ ও ‘জুলাই সমাবেশ’ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ চৌরাস্তা মোড়ে পথযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তার ভাষ্য, বিএনপি সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই। কারণ সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন কিছু দাবি নিয়ে রাস্তায় এসেছে। আপনারা আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বিভিন্নভাবে সন্দেহ করেন। ছাত্রদল ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাদকাসক্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
‘গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভের সঙ্গে বললেন, সংবিধান সংস্কার কমিটি এটি নাকি সংবিধানে নাই। এটি সংবিধানে না থাকলে ২০২৬ সালের নির্বাচনও সংবিধানে ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে। সংবিধান অনুযায়ী আপনার থাকার কথা ছিল শিলংয়ে, আপনার নেতাকর্মীর থাকার কথা ছিল ধানক্ষেতে, সংবিধান অনুযায়ী আপনার নেতাকর্মীরা ঢাকার রিকশাওয়ালা। সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছাত্র-জনতা রাস্তায় এসে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করেছে। পরিতাপের বিষয়, আপনার জনসাধারণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন’— বললেন হাসনাত।
চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এই সংসদ সদস্য স্পষ্ট করেন, ‘৭ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারি সাহায্য পৌঁছায়নি। বন্যা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন প্রতিমন্ত্রী হজ করতে বিদেশে চলে গেছেন। ঠিক এই সময়ে চট্টগ্রামের মানুষ যখন কষ্ট পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন বরিশালে। জাতীয় রাজস্বে চট্টগ্রাম থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকারও বেশি জমা দেয়া হয়েছে। পরিতাপের বিষয় এই বন্যায় পাবর্ত্য চট্টগ্রামে জনপ্রতি ৩০ টাকারও কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে হাসনাতের মত, ‘অভ্যুত্থানের পর আমরা দেখছি, সরকার প্রত্যেকটি জায়গায় তার কমিটমেন্ট থেকে সরে এসেছে। বিএনপি সরকারের কাছে হাসিনার বিচার ব্যবস্থা, হাসিনার সচিবালয়, হাসিনার এক্সিকিউটিভ পছন্দের, হাসিনার ব্যবসায়ীরা পছন্দের। কেবলমাত্র অপছেন্দর ছিলেন শেখ হাসিনা। আমরা আমাদের জায়গা থেকে হাসিনার ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি, কেবল হাসিনার পরিবর্তন চাই নাই। বিএনপি সরকার জনআকাঙ্খার বিপক্ষে গিয়ে তারা এমন এক ধরনের অবস্থান নিয়েছে, যেই অবস্থান মানুষের আকাঙ্খার পরিপন্থী।’
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ প্রসঙ্গে এমপি হাসনাত বলেন, ‘সোনারগাঁয়ের এমপির ছেলে চাঁদাবাজির কারণে থানায় গিয়ে মুচলেকা দিয়েছে। বাপ হচ্ছে এমপি, ছেলে করে চাঁদাবাজি, থানায় গিয়ে দেয় মুচলেকা। আমরা দেখলাম সারা দেশে গ্যাসের হাহাকার। ব্যবসায়ীরা, ফুটপাতের হকার, রিকশাওয়ালারা হাহাকারে রয়েছে। ২০০ টাকা ইনকাম করলে ৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। স্থানীয় এমপিদের চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজির বাংলাদেশ আর চলবে না। মনে রাখবেন প্রত্যেক বছর জুলাই হয় না, যখন জুলাই হবে তখন পালাবার জায়গা পাবেন না।’
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির জেলা আহবায়ক শওকত আলী, আশিকুর রহমান অভিসহ এনসিপির স্থানীয় নেতারা।





