বগুড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে নারীকে লাঠিপেটা ইউপি চেয়ারম্যানের

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মাদকবিরোধী অভিযানে নারীকে লাঠিপেটা করছেন ইউপি চেয়ারম্যান— ভিডিও থেকে নেওয়া
বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক নারীসহ কয়েকজনকে লাঠিপেটার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান এ. এস. এম. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার সকালে কাজলা ইউনিয়নের শাহজালাল বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অভিযানে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছিলেন সারিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাজলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম। তিনিও মারধরে অংশ নেন।
অভিযানের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন কয়েকজনকে আটক করে প্রথমে কান ধরতে বলেন। পরে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মাদক সেবন ও বিক্রি না করার স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। এরপর তাদের কান ধরে উঠবস করানো হয়। একজনকে নাকে খত দিতে বাধ্য করা হয় এবং তার মাথায় চোলাই মদ ঢেলে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শাহজালাল বাজার এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ শ্রী রিপন রবিদাসকে (৪২) মাদকসেবনের অভিযোগে ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় কান ধরে উঠবস করান চেয়ারম্যান। পরে তাকে তওবা পড়ানো হয় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। একই সময় রিপনের স্ত্রী সন্ধ্যা রানীর বাড়িতে গিয়ে তাকেও সবার সামনে লাঠিপেটা করা হয়। ভবিষ্যতে মাদক বিক্রি করবেন না, এমন স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বিএনপি নেতা মহিদুল ইসলাম বললেন, ‘ঘটনার সময় চেয়ারম্যান একটু উগ্র হয়ে গেছিলেন। জনগণকে সামলাতে গিয়ে আমিও একটু অংশগ্রহণ করছি। এটা ভুল হয়ে গেছে। প্রথম ও শেষ বারের জন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন।’
ইউপি চেয়ারম্যান এ. এস. এম. রফিকুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বললেন, ‘মাদকের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ভুল হয়ে গেছে। আপনারা আর এটা নিয়ে আগায়েন না। এখানেই শেষ করে দেন।’
যাদের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, তাদের অপরাধ কী ছিল এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বললেন, ‘ওরা মাদক সেবন করতো।’
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. ফ. ম. আছাদুজ্জামান বলছিলেন, ঘটনাটি তিনি ফেসবুকে দেখেছেন। ‘একটা ভালো কাজ করতে গিয়ে কেউ আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। আমি বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানিয়েছি।’
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলছিলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে আমি জেনেছি। ভিডিওগুলো আমি এই মাত্র দেখলাম। এই বিষয়ে আমি আজই চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠাবো। সেই সাথে তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করে দিব আজকেই।’





