সিসিক প্রশাসক
শ্রমিকদের কল্যাণে পাশে থাকবে সরকার

ছবি: আগামীর সময়
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার সর্বদা পাশে থাকবে। পরিবহন খাতের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একজন দক্ষ চালকও অন্য কোনো চালকের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এতে অনেক সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে এবং বিপদে পড়ে শ্রমিকের পরিবার। শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ রবিবার দুপুরে সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল থেকে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিকদের পরিবারের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকার শ্রমিকবান্ধব। সরকার সবসময় শ্রমিকদের পাশে আছে। সিলেট সিটি করপোরেশনও পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণে পাশে থাকবে। একজন কর্মক্ষম মানুষ মারা গেলে শুধু তার পরিবারই নয়, তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল সদস্যরাও সংকটে পড়েন। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমিক সংগঠন ও সরকারের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের পরিবারের দুর্দিনে সহযোগিতা করা এবং কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেছেন, নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া কোনো কাজই সফলভাবে সম্পন্ন করা কঠিন। তাই সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রমে পরিবহন শ্রমিকদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনের সভাপতি ময়নুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নাজিম উদ্দীন লস্কর ও ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি সাহেব আলী, সহসভাপতি মানিক মিয়া, সহসাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত আবুল, প্রচার সম্পাদক হারিছ আলী, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ এবং কার্যকরী সদস্য আজিজ আহমদ, সাইফুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন ও শেখ ফরিদ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শ্রমিক ইউনিয়নের কল্যাণ তহবিল থেকে মৃত্যুবরণকারী ১৮ জন শ্রমিকের পরিবারের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। এ হিসাবে মোট ৯ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়।
অনুদানপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন গোয়ালাবাজার মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের মরহুম হেলাল মিয়ার পরিবার, কদমতলী মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের মরহুম সোয়েদ আহমদ ও মরহুম রফিক আহমদের পরিবার।
এ ছাড়া সিলেট-ঢাকা বাস রুটের মরহুম মুহিব উদ্দিন, মরহুম আতিকুর রহমান, প্রয়াত রঞ্জিত দেব ও মরহুম শিশু মিয়ার পরিবার এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের প্রয়াত দিলীপ দেবের পরিবার অনুদান পেয়েছে।
সিলেট-তামাবিল সড়কের মিনিবাস শ্রমিকদের মধ্যে মরহুম সুলেমান আলী, মরহুম সমছির আলী, মরহুম মোহাম্মদ আলী, মরহুম রেজাউল করিম, মরহুম ফলিক আহমদ, মরহুম আব্দুল গনি, মরহুম হিরা মিয়া, প্রয়াত প্রজেশ রঞ্জন দাস, প্রয়াত দীপু মালাকার, মরহুম জয়নাল আহমদ, মরহুম ফরহাদ আহমদ ও মরহুম আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে অনুদান দেওয়া হয়।



