শুধু লেখাপড়া শিখেই বিশ্ব জয় করা যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ির শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে কথা বলছেন, ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন কুঁড়ির শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশের মালিক তোমরা। এটা তোমাদের দেশ। এ দেশটাকে তোমাদের গড়তে হবে। সে জন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তোমরা প্রত্যেকে যাতে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পার, সেই ব্যবস্থা করব। শুধু লেখাপড়া করলেই চলবে না। লেখাপড়ার পাশাপাশি তোমাদের খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চাও জানতে হবে। কারণ বিশ্বকে জয় করতে হলে এসব বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা আছ আমার সঙ্গে? তোমরা কি জান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর ফাইনাল হয়েছে জুন মাসে। এতে ১৬ লাখ শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করেছে। তোমরা প্রমাণ করে দিয়েছ, তোমরা পার। ইউ ক্যান ডু ইট। তোমরা যেমন লেখাপড়া করতে পার, খেলাধুলা করতে পার, তেমনি শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চাও করতে পার। তোমাদের পারতেই হবে। কারণ, এই বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে তোমাদেরই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে, ধীরে ধীরে তোমাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। তোমরা যদি আমার সঙ্গে থাকো, তাহলে সেই সুযোগ ও পরিস্থিতি তৈরি করে দেব।’
শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি তোমাদের আরেকটি ভাষা শেখাতে চাই। তোমরা যেমন বাংলা ও ইংরেজি বলবে, পাশাপাশি আরও ছয়-সাতটি ভাষার মধ্য থেকে একটি বেছে নিতে পারবে। তোমরা যদি লেখাপড়ায় ভালো হও, খেলাধুলায় ভালো হও এবং এর পাশাপাশি আরেকটি ভাষা শেখো, তাহলে পৃথিবীর কোনো জাতিই তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না। তোমরা অন্য জাতিগুলোর চেয়ে এগিয়ে যেতে পারবে এবং বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আগামীতে এমন একটি দিন আসবে, যেদিন আমরা অন্য কোনো দেশের উদাহরণ দেব না। বলব না, অমুক দেশ কত ভালো, কত শক্তিশালী। বরং তোমরা উদাহরণ দেবে, বাংলাদেশ অন্যতম শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী দেশ। এই কাজ তোমাদেরই করতে হবে। পারবে না?’
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে আমার দেখা হবে স্কুল-কলেজে, খেলার মাঠে ও সংস্কৃতির অঙ্গনে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তোমাদের শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চাও করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে গ্যালারিতে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধন করেন।
এর আগে তিনি চীন ও বাংলাদেশের কিশোরদের একটি যৌথ দলের নৃত্য পরিবেশনা এবং বাংলাদেশের ১০টি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। এ সময় ৪০ জন শিক্ষার্থীর হাতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির অফার লেটার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথে মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো মোড়ে আয়োজিত পথসভায়ও বক্তব্য দেন তিনি।
প্রটোকল ভেঙে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনায় প্রবেশের সময় রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় প্রটোকল উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যান। এ সময় তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে হাত মেলান।
প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে মহানগরীর প্রবেশদ্বার রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় একটি পথসভার মঞ্চ তৈরি করা হয়। তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে মঞ্চে নেওয়ার জন্য তিন সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী আসার আগেই তারা মঞ্চের সামনে অপেক্ষা করছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বাসটি পথসভার মঞ্চের পাশে এসে থামে। তবে অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা নেতারা তার কাছে পৌঁছানোর আগেই বাস থেকে নেমে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলে যান তিনি। এ সময় কোনো প্রটোকল না মেনে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে হাত মেলান প্রধানমন্ত্রী।
তার এ আচরণে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ। উপস্থিত অনেককে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। প্রধানমন্ত্রী কোনো সভা-সমাবেশে গিয়ে মঞ্চে ওঠার আগেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন। পরে তিনি মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের মোংলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। সেখানকার কর্মসূচি শেষে তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২’-এর উদ্বোধন করতে রওনা হন।
এ সময় তিলক কুদির বটতলা থেকে খানজাহান আলী সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান।



