শ্রীমঙ্গলে সরানো হলো ৩ হাজার ব্যানার-ফেস্টুন

শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের ফুটপাত দখলমুক্তসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণের উদ্যোগ। ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌর শহরে প্রায় তিন হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণ করেছে পৌরসভা। এতে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গাছের সৌন্দর্য ফিরতে শুরু করেছে। তবে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারীরা। মাইকিং করে সতর্ক করার পরও ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়নি।
গত শুক্রবার, শনিবার ও রোববার টানা তিন দিন শহরের বিভিন্ন সড়ক, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করেন পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সরফরাজ আহমেদ সরফু নিজের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণের উদ্যোগ নেন। দুপুরে শহরের চৌমুহনা চত্বরে নিজের হাতে ব্যানার খুলে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন তিনি। এ সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের স্থানীয় নেতাকর্মী, তার সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
সরফরাজ আহমেদ জানিয়েছেন, প্রচার-প্রচারণা শেষে ব্যানার ও পোস্টার সরিয়ে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব। পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নিতে হবে। শ্রীমঙ্গলকে আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন উৎসব, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে বিপুলসংখ্যক ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হয়েছিল। এগুলো সরিয়ে নিতে আগে মাইকিং করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ জানানো হয়। পরে পৌরসভার অভিযানে প্রায় তিন হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়।
সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি থেকে ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে কয়েকটি এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ফিরে এসেছে। তবে বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো থাকায় পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পৌরসভা কাজ করছে। ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে নিতে আগে মাইকিং করা হলেও অধিকাংশ ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে সেগুলো সরাননি। পরে অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন হাজার ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, শহরের যানজট কমানো, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে। জনস্বার্থে ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। শহরের সড়ক ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী রাখতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




